পাকিস্তানে পুলিশ কম্পাউন্ডে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ১৬

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট জেলায় একটি পুলিশ কম্পাউন্ডের কাছে সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক ও পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জিও নিউজ জানিয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় কোহাটের ওল্ড পুলিশ লাইনসের প্রবেশগেটে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ধাক্কা দিলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।

একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িটি পুলিশ কম্পাউন্ডের গেট লক্ষ্য করে এগিয়ে যায়। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কোহাট জেলা হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা তাহির আলী শাহ জানিয়েছেন, হাসপাতালটিতে ১৫টি মরদেহ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আহত অনেক মানুষকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশ নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক ব্যক্তি এবং পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর একজন ‘সন্ত্রাসী’ও নিহত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তিই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পুলিশ কম্পাউন্ডের ভেতরে থাকা একটি মসজিদের বাইরে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় হামলার ঘটনাটি ঘটায় হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। উদ্ধারকারী দল আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। হামলার ধরন ও এর পেছনে কারা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বেলুচিস্তানে পৃথক অভিযান

এদিকে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক দুটি অভিযানে সাতজন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রদেশটির বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী সাতজন ‘মিলিট্যান্ট’কে হত্যা করেছে।

কোহাটে পুলিশ কম্পাউন্ডে হামলা এবং বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের ঘটনা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলমান নিরাপত্তা সংকটের চিত্র তুলে ধরছে। তবে কোহাটের হামলার জন্য কোনো গোষ্ঠী তাৎক্ষণিকভাবে দায় স্বীকার করেছে কি না, তা প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

AHA
আরও পড়ুন