নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুহার ৭১ শতাংশ, বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

শীতের সকালে কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার আনন্দ নিমিষেই বিষাদে পরিণত হতে পারে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণে। প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল সচেতনতার মাধ্যমেই এই ভয়াবহ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের ৩২টি জেলায় ৩৪৩ জন নিপাহ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৪৫ জনই মারা গেছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশে এই রোগে গড় মৃত্যুর হার প্রায় ৭১ শতাংশ।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন-এর ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ডা. আরিফা আকরাম বর্না জানান, নিপাহ মূলত একটি প্রাণিবাহিত ভাইরাস, যা বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাব থেকে খেজুরের রসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তি থেকেও এটি দ্রুত অন্য ব্যক্তিতে ছড়াতে পারে।

ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের ৪ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, গলা ব্যথা এবং পেশিতে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অবস্থা জটিল হলে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারেন এবং মারাত্মক শ্বাসকষ্ট বা মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) দেখা দিতে পারে।

নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত করতে আক্রান্তের রক্ত, প্রস্রাব ও সেরেব্রো স্পাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষা করা হয়। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সাধারণত বায়োসেফটি লেভেল-৪ ল্যাবরেটরিতে এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

নিপাহ ভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন এখনও আবিষ্কৃত না হওয়ায় চিকিৎসকরা নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন:
১. খেজুরের কাঁচা বা অপরিষ্কার রস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
২. পাখির খাওয়া বা কামড়ানো কোনো ফল খাওয়া যাবে না।
৩. আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে এবং সেবায় নিয়োজিতদের মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে।
৪. সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সর্বোপরি, নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচতে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সরকারি নজরদারি ও প্রচারণার মাধ্যমেই এই মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব।

DR/AHA
আরও পড়ুন