ঢাকা
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
ই-পেপার

অ্যানথ্রাক্সের কারণ, লক্ষণ, সতর্কতা ও চিকিৎসা

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম

বাংলাদেশের কয়েকটি জেলায় সম্প্রতি অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে, এতে সেসব এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অ্যানথ্রাক্স যাকে স্থানীয়ভাবে উল সাজানোর রোগ বা ম্যালিগন্যান্ট পুস্টুলও বলা হয় একটি ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট মারাত্মক সংক্রমণ। সাধারণভাবে রোগটি প্রাণি থেকে মানুষে ছড়ায়, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি সংক্রমণের খুবই দুর্লভ বা অনুপস্থিতি দেখা গেছে।

লক্ষণ

  • অ্যানথ্রাক্স প্রধানত তিনভাবে হয়ে থাকে ত্বকের (কিউটেনিয়াস), শ্বাসনালী (ইনহেলেশনাল) এবং পরিপাকতন্ত্র/পেট সংক্রান্ত (গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল) অ্যানথ্রাক্স।
  • ত্বকের অ্যানথ্রাক্সে প্রথমে ছোট একটি চুলকানিযুক্ত ঘা দেখা যায়, পরে তা ফোস্কা ও কালো কেন্দ্রবিশিষ্ট আলসারে পরিণত হতে পারে।
  • শ্বাসনালী অ্যানথ্রাক্সে initially ফ্লু সদৃশ লক্ষণ (জ্বর, কাশি, কাশি বাড়া) দেখা যায়, পরে শ্বাসকষ্ট ও গুরুতর জটিলতা হতে পারে।
  • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অ্যানথ্রাক্সে বমি, তীব্র পেটব্যথা, রক্তমিশ্রিত দস্ত ইত্যাদি দেখা যেতে পারে।

কীভাবে অ্যানথ্রাক্স মানুষের মধ্যে ছড়ায়

সংক্রামিত পশু (গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ) কিংবা তাদের দেহাংশ, রক্ত বা পশু পণ্য (চামড়া, উল) থেকে মানুষের সংক্রমণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। রোগতত্ত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মেহেরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন- বাংলাদেশে অ্যানথ্রাক্স সাধারণত পশু পালনে পরিচালিত কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় বেশি দেখা যায়। পশু জবাই, মাংস কাটাকাটি ও সংস্পর্শে চামড়া-কাটা থাকা ক্ষত থাকলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর মাংস খেলে কি হবে

আইইডিসিআরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর কাঁচা বা অপূর্ণভাবে রান্না করা মাংস খেলে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অ্যানথ্রাক্সের ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে দেশের প্রচলিত পদ্ধতিতে সম্পূর্ণরূপে রান্না করলে জীবাণুর টিকে থাকার সম্ভাবনা কম। তবুও অনুরোধ করা হচ্ছে অসাধু উৎস থেকে সস্তায় বিক্রি হওয়া সন্দেহজনক মাংস বর্জন করুন।

কি সতর্কতা নেবেন (করণীয়)

  • সন্দেহভাজন বা অসুস্থ পশু, তাদের দেহাংশ ও পশু পণ্য থেকে দূরে থাকুন।
  • পশু জবাই, মাংস কাটাকাটির সময় গ্লাভস ও উপযুক্ত সুরক্ষা ব্যবহার করুন, কাঁচা মাংস আলাদা পাত্রে রাখুন এবং ভালভাবে রান্না করে খান।
  • পশু পালনে যুক্তরা নিয়মিতভাবে তাদের পশুকে অ্যানথ্রাক্স টিকা করিয়ে নিন।
  • অ্যানথ্রাক্স সন্দেহভাজন মৃত পশু দ্রুত মাটির নীচে পুতে দিন, স্থানীয় পশুপালন বা স্তন্যপান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক জানানো ও নির্দেশনা নিন।
  • বারবার হাত ধোয়া ও প্রচলিত স্বাস্থ্যবিধি মানুন, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র অন্যের সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
  • অস্বাভাবিক ত্বকের ঘা, জ্বর বা শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান ও চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

রোগ নির্ণয়ের জন্য ডাক্তার প্রয়োজনীয় টেস্ট (ত্বকের টিস্যু, রক্ত, মল, বুকের এক্স-রে/সিটি) করতে পারেন। অ্যানথ্রাক্স দ্রুত শনাক্ত ও প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা করলে ভালো প্রত্যাশা থাকে। চিকিৎসায় সাধারণত সিপ্রোফ্লক্সাসিন, ডক্সিসাইক্লিন বা পেনিসিলিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, প্রয়োজনে অ্যান্টিটক্সিন এবং হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সমর্থনও দেওয়া হয়।

সতর্কবার্তা

আইইডিসিআর এবং স্থানীয় পশু ও জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশগুলি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। অ্যানথ্রাক্স একটি গুরুতর সংক্রমণ, সচেতনতা, তৎপর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণই রক্ষা পেতে সাহায্য করবে। সন্দেহ বা লক্ষণ ধরা পড়লে দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

NB/SN
আরও পড়ুন