সুস্বাস্থ্যের আশায় আমাদের দেশে অনেকেরই রাতের খাবারে ভাতের বদলে রুটি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। বিশেষ করে ওজন কমাতে বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রুটিকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় রাতে নিয়মিত রুটি খাওয়ার কিছু নেতিবাচক দিক উঠে এসেছে, যা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণত মনে করা হয় রুটি হার্টের জন্য ভালো। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গমের তৈরি এই খাবারটি অনেকের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এই আশঙ্কায় অনেক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বর্তমানে রাতে নিয়মিত রুটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।
যারা কেবল ওজন কমানোর নেশায় রাতে রুটি খান, তাদের জন্য দুঃসংবাদ দিয়েছেন ত্বক বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অতিরিক্ত গমজাতীয় খাবার ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে:
- ত্বক দ্রুত কুঁচকে যাওয়া এবং বলিরেখা পড়ার ঝুঁকি থাকে।
- শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
‘আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিকাল নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিয়মিত রাতে রুটি খেলে মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনের প্রবণতা বাড়তে পারে। গমে থাকা গ্লুটেন অনেক সময় হজমে ব্যাঘাত ঘটায়, যা পরোক্ষভাবে মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
রুটি হজম করার ক্ষমতা সবার সমান থাকে না। এটি অনেকের রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে রাতে যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য রুটি অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
তবে ডায়েটেশিয়ানদের মতে, রুটি যে সবার জন্যই ক্ষতিকর এমনটি নয়। যাদের শরীর রুটির সাথে পুরোপুরি মানিয়ে গেছে এবং কোনো হজমের সমস্যা নেই, তাদের জন্য এটি ফিট থাকার ভালো মাধ্যম হতে পারে কারণ রুটিতে ক্যালোরি কম থাকে। এছাড়া রুটিতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও রয়েছে।
রাতে রুটি খাবেন কি না, তা নির্ভর করে আপনার শরীরের গঠন ও হজমশক্তির ওপর। তাই অন্ধভাবে কোনো খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ না করে একজন বিশেষজ্ঞ ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে নিজের ডায়েট চার্ট তৈরি করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
জেনে নিন তেজপাতার চায়ের পুষ্টিগুণ ও প্রস্তুত প্রণালী
ক্ষুধা পেলে কিছু মানুষ মেজাজ হারান কেন?
