সন্তান নিতে সমস্যার কারণে অনেক নারীই বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নেন। এ সময় বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে শরীরে হরমোনের মাত্রা বাড়ানো হয়। তাই অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—এই চিকিৎসার কারণে ভবিষ্যতে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে কি?
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, বেশিরভাগ নারীর ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় না।
কেন এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে?
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় এমন কিছু ওষুধ দেওয়া হয়, যা ডিম্বাশয়কে বেশি সক্রিয় করে। এর ফলে শরীরে কিছু হরমোনের পরিমাণ সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। কলকাতার নারায়ণা আরএন ট্যাগোর হাসপাতালের স্তন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. প্রগতি সিংহল জানান, সন্তান ধারণে সাহায্য করতে ডিম্বস্ফোটন বাড়ানোর চিকিৎসা এবং আইভিএফে কিছু বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এসব ওষুধের কারণে শরীরে হরমোনের মাত্রা কিছু সময়ের জন্য বেড়ে যেতে পারে।
এই কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, অল্প সময়ের এই হরমোনের পরিবর্তন ভবিষ্যতে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় কি না।
গবেষণা কী বলছে?
গত ২০ বছরে এ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। বেশিরভাগ গবেষণায় দেখা গেছে, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নেওয়া নারীদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি সাধারণ নারীদের তুলনায় বেশি নয়। আইভিএফ বা এ ধরনের চিকিৎসা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়—এমন পরিষ্কার প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
তবে বন্ধ্যাত্বের সঙ্গে জড়িত কিছু বিষয় আলাদাভাবে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিতে প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন, বেশি বয়সে প্রথম সন্তান নেওয়া বা সন্তান না হওয়া। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ওষুধকে ঝুঁকির কারণ মনে হলেও প্রকৃত কারণ অন্য কিছু হতে পারে।
কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?
যেসব নারীর পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের চিকিৎসা শুরুর আগে চিকিৎসকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা উচিত। একইভাবে, যাদের শরীরে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন কিছু বংশগত পরিবর্তন রয়েছে, তাদেরও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
একই ওষুধ বারবার বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। তবে এতেও স্তন ক্যানসারের সঙ্গে শক্ত কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তারপরও প্রত্যেক নারীর শারীরিক অবস্থা আলাদা হওয়ায় চিকিৎসা পরিকল্পনাও আলাদা হওয়া উচিত।
চিকিৎসা নেওয়ার আগে কী করবেন?
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নেওয়ার আগে নিজের এবং পরিবারের রোগের ইতিহাস চিকিৎসককে জানানো জরুরি। স্তন ক্যানসার নিয়ে ব্যক্তিগত ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে তা নিয়ে কথা বলতে হবে। পাশাপাশি বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে বলা যায়, বর্তমান গবেষণা অনুযায়ী বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার কারণ নেই। সন্তান ধারণে সাহায্য করার এই চিকিৎসা সাধারণত নিরাপদ। তবে প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা আলাদা, তাই নিজের জন্য কোন চিকিৎসা সবচেয়ে উপযুক্ত, তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
পাকিস্তানি হানি ট্র্যাপে ফেঁসে গ্রেপ্তার ভারতীয় নৌবাহিনীর নাবিক
ফুটবলের চেয়েও বড় সম্পদ রোনালদো: পর্তুগালের অর্থমন্ত্রী
হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু