যোগ দিবস আজ

সুস্থ বার্ধক্য ও সুন্দর জীবনের দাওয়াই যোগ

আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

শারীরিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি এবং আধ্যাত্মিক চেতনার মেলবন্ধনে আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। প্রতি বছর ২১ জুন বিশ্বব্যাপী ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়। ২০১৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর ২০১৫ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালন করা শুরু হয়।

ভৌগোলিক দিক থেকে ২১ জুন উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন, যা ‘গ্রীষ্মকালীন অয়নকাল’ (Summer Solstice) নামে পরিচিত। এদিন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে আলো দেয়। এই দীর্ঘতম দিনের পর সূর্য যখন দক্ষিণায়নে প্রবেশ করে, তখন সনাতন দর্শনে সাধনা ও আত্মশুদ্ধির এক বিশেষ উপযুক্ত সময় শুরু হয়। এই গভীর প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্যকে সম্মান জানিয়েই ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’ (Yoga for Healthy Ageing)। বর্তমান বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির সাথে সাথে বার্ধক্যকে রোগমুক্ত ও সক্রিয় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত যোগচর্চা বয়সজনিত শারীরিক ও মানসিক জটিলতা মোকাবিলা করে শরীরকে সচল রাখতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

চিকিৎসা গবেষকদের মতে, আধুনিক যান্ত্রিক ও মানসিক চাপযুক্ত জীবনে যোগব্যায়াম কেবল কোনো শারীরিক কসরত নয়, এটি একটি সামগ্রিক জীবনদর্শন। নিয়মিত যোগাভ্যাস মানুষের মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অবসাদ দূর করে ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটায়। পাশাপাশি এটি পেশী ও অস্থিসন্ধিকে নমনীয় করে এবং শরীরের হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে। নিয়মিত যোগাসনে শরীরের রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পাওয়ায় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। এছাড়া গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং শ্বাসকষ্টের মতো ক্রনিক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে যোগব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

আজকের প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মব্যস্ত সময়ে প্রতিদিন অল্প কিছু সময় যোগচর্চার পেছনে ব্যয় করলে তা মানুষকে আরও কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত জীবন উপহার দিতে পারে। তাই সুস্থ শরীর, শান্ত মন এবং সুন্দর সমাজ গঠনে যোগকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের অংশ করে তোলার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

SN
আরও পড়ুন