ওজন কমলে শরীরের চর্বি কোথায় যায়, জানুন আসল রহস্য

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০০ এএম

ওজন কমাতে ব্যায়াম ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণের পর শরীরের জমে থাকা চর্বির কী হয় ঘাম হয়ে বেরিয়ে যায়, নাকি অন্য কোনোভাবে শরীর থেকে নিঃসৃত হয়? বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে নানা ভুল ধারণা। আসলে চর্বি কমার পেছনে কাজ করে শরীরের একটি জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়া।

বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

চর্বি আসলে কোথায় যায়?

গল্প শুরু হয় আমাদের খাওয়ার টেবিল থেকে। আমরা যেসব চর্বিযুক্ত খাবার খাই, সেগুলো পাচনতন্ত্রে গিয়ে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিণত হয়। আমাদের শরীর এই ফ্যাটি অ্যাসিডের কিছু অংশ ব্যবহার করে কোষ তৈরি, হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সুরক্ষিত রাখার কাজে। অতিরিক্ত অংশ ট্রাইগ্লিসারাইড হিসেবে ফ্যাট সেলে জমিয়ে রাখা হয়। পরে শরীরে শক্তির ঘাটতি হলে এটি ব্যবহার করা হয়।

এই চর্বি সাধারণত চামড়ার নিচে এবং ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চারপাশে জমা হতে থাকে। আসল প্রক্রিয়া শুরু হয়, যখন আমরা খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করি বা শরীরচর্চা শুরু করি। শরীর যখন খাবার থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি পায় না এবং ক্যালরির ঘাটতি তৈরি হয়, তখন হরমোন ও স্নায়ুর সংকেতে ফ্যাট সেলগুলো সাড়া দেয়। চর্বি ভাঙার এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় লাইপোলাইসিস।

ট্রাইগ্লিসারাইড ভেঙে যাওয়ার পর ফ্যাটি অ্যাসিড চলে যায় কোষের শক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়ায়। সেখানে বিটা-অক্সিডেশনের মাধ্যমে এগুলো ভেঙে শক্তিতে রূপ নেয়। এই রাসায়নিক বিক্রিয়ার শেষ উপজাত হিসেবে তৈরি হয় দুটি জিনিস কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি। প্রশ্ন হলো, এসব বর্জ্য শরীর থেকে বের হয় কীভাবে?

চর্বি যেভাবে বের হয়

অনেকেই মনে করেন, মেদ ঝরা মানেই প্রচুর ঘাম হওয়া। কিন্তু গবেষকদের মতে, আসল বিষয়টি ভিন্ন। চর্বি কমার পর এর বেশির ভাগই শরীর থেকে ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাসের সঙ্গে বের হয়ে যায়।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, হারিয়ে যাওয়া মেদের প্রায় ৮৪ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়। আমরা যখন শ্বাস ছাড়ি, তখন এই কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে মিশে যায়। আর বাকি ১৬ শতাংশ পানি হিসেবে ঘাম, প্রস্রাব ও অন্যান্য শারীরিক তরলের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

শ্বাসের সঙ্গে চলে যাবে মেদ?

প্রশ্ন হতে পারে, দ্রুত ও জোরে শ্বাস নিলে কি মেদ কমবে? উত্তর হলো, না। দ্রুত শ্বাস ছাড়লে চর্বি গলে যায় না। শ্বাস ছাড়ার মাধ্যমে চর্বি ভাঙার পর তৈরি হওয়া বর্জ্য শরীর থেকে বের হয়; এটি চর্বি পোড়ানোর মূল কারণ নয়।

শরীরকে জমে থাকা চর্বি ব্যবহারে বাধ্য করার প্রধান উপায় হলো নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ক্যালরির ঘাটতি বজায় রাখা।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত