জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিখোঁজ ও বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা শহীদদের পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লবে নিখোঁজ যোদ্ধাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ প্রমাণ করে, সত্যকে চিরদিন চাপা দেওয়া যায় না। নিহতদের নাম ও পরিচয় ফিরে আসবে, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরদিন লিপিবদ্ধ থাকবে।’
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নিখোঁজদের ডিএনএ সংগ্রহ সংক্রান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঢাকার রায়ের বাজার কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪টি মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডি। গত ৭ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলে। ইতোমধ্যে ৯টি পরিবারের দেওয়া নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে ৮ জন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন- সোহেল রানা, রফিকুল ইসলাম (৫২), আসাদুল্লাহ, মাহিন মিয়া, ফয়সাল সরকার, পারভেজ বেপারী, কাবিল হোসেন এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)। সিআইডি নিশ্চিত করেছে, তারা প্রত্যেকেই বুলেটবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘তৎকালীন সরকার যে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করে গণকবর দেওয়ার মতো ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না। শহীদদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিখোঁজ পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়ের পথে একটি বড় অগ্রগতি।’
বৈঠকে সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, একজন মা দীর্ঘ ১৬ মাস ধরে রায়ের বাজার কবরস্থানের একটি নির্দিষ্ট গাছের নিচে গিয়ে তাঁর সন্তানের লাশের জন্য অপেক্ষা করতেন। আশ্চর্যজনকভাবে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ওই গাছের নিচেই তার সন্তানের লাশ শনাক্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজের পরামর্শে ও সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে এই নমুনা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়। বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গভীর সমুদ্রে গবেষণা ও সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
