বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সিপাহসালার, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার মহিষখোলা গ্রামে (বর্তমান নূর মোহাম্মদনগর) তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

নূর মোহাম্মদ শেখের শৈশব ছিল বেশ লড়াইয়ের। ছোটবেলাতেই তিনি বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছাকে হারান। দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া বেশিদূর এগোয়নি, স্থানীয় স্কুলে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে থমকে যেতে হয় তাকে। তবে দেশপ্রেমের টানে ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর), যা বর্তমানে বিজিবি হিসেবে পরিচিত, যোগদান করেন।

নূর মোহাম্মদের কর্মজীবন ও মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। দিনাজপুর সীমান্তে দীর্ঘ সময় চাকরির পর ১৯৭০ সালে তিনি যশোর সেক্টরে বদলি হন এবং ল্যান্স নায়েক পদে উন্নীত হন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি দেশের টানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে থেকে তিনি বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিনি কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরীর অধীনে এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর এস এ মঞ্জুরের অধীনে যুদ্ধ করেন। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে নূর মোহাম্মদ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে অকুতোভয় যুদ্ধ চালিয়ে যান।

১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে নূর মোহাম্মদ শেখ অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। সঙ্গীদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে নিজে গুরুতর আহত হলেও যুদ্ধ চালিয়ে যান এবং সেখানেই বীরত্বের সাথে শহীদ হন।

তার অসামান্য ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২০০৮ সালে তার নিজ গ্রাম মহিষখোলার নাম পরিবর্তন করে ‘নূর মোহাম্মদনগর’ করা হয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার এই মহান আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

DR/SN
আরও পড়ুন