আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দুর্বৃত্তরা ভোটের বাক্সে হাত দিলে, সেই হাত গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।
জামায়াত মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আর মানুষে মানুষে ভেদাভেদ চাই না, আমাদের সবার পরিচয় 'আমরাই বাংলাদেশ'। যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য।’
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, একটি দল দাবি করছে তারা ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি দমন করবে, অথচ তাদের ৩৯ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীই গুরুতর ঋণখেলাপি। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ঋণখেলাপিরা কীভাবে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে?
জনগণের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, সবার দোয়া, ভালোবাসা ও ভোট দিয়ে জামায়াতকে একটি সুযোগ দিতে। তিনি বলেন, দল ক্ষমতায় গেলে কোনো প্রকার দুর্নীতি করবে না এবং দুর্নীতি সহ্যও করবে না। জামায়াত দেশকে লুটেপুটে খাওয়ার জন্য ক্ষমতায় যেতে চায় না; বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
নিজের আগের একটি বক্তব্যের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশের জনগণ এক জালিমকে বিদায় দিয়ে আরেক জালিমের হাতে দেশ তুলে দিতে চায় না। সেই বক্তব্য আজও প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে যাচ্ছে, তখন কিছু দেশ প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তির নাক গলানো মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে, তবে কোনো দেশের আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না। বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে দাঁড়াবে- এমন প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; জুলাই ছিল ১৮ কোটি মানুষের। এককভাবে কাউকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা হলে শহীদদের অবমাননা করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সকালে যাত্রাবাড়ীতে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, যুবক-যুবতীদের বেকার ভাতা নয়, তাদের হাতে কাজ তুলে দিয়ে কারিগরি দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এসে জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মেয়র ও কাউন্সিলরদের বছরে চারবার পচা ডোবার পানিতে গোসল করানো হবে।
নির্বাচনি প্রচারণায় উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন জামায়াত আমির
