জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৫৪ বছর ধরে তিনটি দল পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে দেশটাকে লুটেপুটে খেয়েছে। এবার জনগণকে শান্তভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে দেশ পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়ার নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, এক নেতা বলেছেন- জামায়াতের নারীরা যদি ভোট চাইতে যায়, তাদের কাপড় খুলে নেওয়া হবে। ভোটের আগে যদি তোমরা মায়ের কাপড় খুলতে পারো, তাহলে ভোটের পরে পুরো বাংলাদেশের কাপড় খুলে নেবে। তাহলে আমাদেরকে মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষার্থে এই খুনিদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করবো দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করে।
তিনি বলেন, এত মানুষের রক্ত, জুলাই আন্দোলনে শহীদ, আহত ও মানুষে স্বপ্ন ভুলুন্ঠিত হতে দেওয়া যাবে না। গ্রামে গ্রামে এখন দাঁড়িপাল্লার জোয়ার উঠেছে। সেই জোয়ার দেখে আমাদের বন্ধুদের মাথা এলোমেলো হয়ে গেছে। কোনো এলোমেলোতে কাজ হবে না। তারা এখন আবার না ভোটের কথা বলে বেড়ায়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আপনারা জানেন ঘুরে ফিরে তিনটি দল দেশ চালিয়ে পরীক্ষিত। পরীক্ষিত মানে হচ্ছে নৈতিকতা, সততা, আদর্শ, আখলাক, দেশপ্রেম, মমত্ববোধ, মানবতা এবং মানুষত্বের সকল পরীক্ষায় তারা ব্যর্থ হয়েছে। এখানে অনেক দলের লোক আছেন, আমার বক্তব্য শুনছেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে চাই, তাদের দলের নেতারা কি বলতে পারবে তাদের শাসন আমলে দুর্নীতি করেননি। তারা এদেশে ভিন্ন মতের লোকদের দমন নিপীড়ন করেছেন, বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছেন। পাশাপাশি এদেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছেন। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। কিন্তু তারা মানুষকে যে ওয়াদা দিয়েছে তা রাখতে পারেনি। তারা দেশটাকে তিনবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পয়িন বানিয়েছে। যার ফলে বিশ্বের দরবারে আমরা লজ্জিত ছিলাম।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ বলছে আমরা ৫৪ বছরের শাসন দেখেছি। এখন পরিবর্তন চাই। কেমন পরিবর্তন চাই, যারা বিগত বছরগুলোতে যারা দুর্নীতি ও দুঃশাসন করেছে তাদেরক আবার আনব। না, আমরা এবার ন্যায় ও ইনসাফের সরকার প্রতিষ্ঠা করবো। যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নির্বাচনের দিন আপনাদের কাজ হচ্ছে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া। এক কেন্দ্রের জন্য কমপক্ষে ২০০ লোক উপস্থিত থাকবেন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, পুলিশকে বডি ক্যামেরা এবং সেনাবাহিনী দেওয়ার জন্য। এসব কিছুই থাকবে। কেন্দ্র দখল, ব্যালেট বক্স ছিনতাই এগুলো করতে দেওয়া হবে না। সন্ত্রাসী কেন্দ্রের সামনে আসলে তাদের ছবি ও ভিডি সংরক্ষণ হবে। তাদেরকে ধরে এনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। চাঁদপুর শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজাহানা মিয়া, চাঁদপুর-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাচনি টিম সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভুঁইয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। চাঁদপুর শহর জামায়াত আয়োজিত জনসভায় সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আফছার উদ্দিন মিয়াজী ও সেক্রেটারি মো. জোবায়ের হোসেন খান।
এর আগে সকাল ১০টায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়াও বিকেলে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুলের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে চাঁদপুর ত্যাগ করেন তিনি।
যারা নারী কর্মীদের হেনস্তা করেন, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে: জামায়াত
আমরা কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না: জামায়াত আমির
