বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল বুধবার (১৭ জুন) থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসাবে আগামী ২৬ জুন শুক্রবার পবিত্র আশুরা পালিত হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে।
পবিত্র আশুরা ইসলামের ইতিহাসে একটি ঘটনাবহুল দিন। মহান আল্লাহতায়ালা এই দিনেই আরশ, কুরসি, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এ দিনেই আদম (আ.)কে সৃষ্টি করা হয়। পরে শয়তানের প্ররোচনায় তিনি ভুল করলে এই দিনই তাকে দুনিয়ায় পাঠানো হয় এবং পরে তাকে আল্লাহর প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়।
হযরত নুহ (আ.) দীর্ঘ ৯৫০ বছর তাওহিদের বাণী প্রচারের পর যখন তার যুগের মানুষ আল্লাহর বিধান মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন আল্লাহর গজব নেমে আসে। আশুরার দিনেই হযরত ইব্রাহিম (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। আবার এই দিনেই হযরত মুসা (আ.)এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইল ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি লাভ করে।
কারবালার শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটিও সংঘটিত হয় আশুরার দিনে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.) ৬১ হিজরির এই দিনে কারবালার প্রান্তরে অন্যায় ও জালিম শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাঁর পরিবার সহ শাহাদত বরণ করেন।
হজরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ড থেকে আল্লাহর হুকুমে মুক্তি লাভ করেন।
এসব কারণে দিনটি বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়ে থাকে।
নতুন গিলাফে সজ্জিত হলো পবিত্র কাবা শরিফ
আশুরা কবে, জানা যাবে আজ
জীবনযুদ্ধে সফল হতে মহানবীর (সা.) গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা