আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের বিষয়টি এখন পুরোপুরি ঝুলে আছে দেশটির সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও একই পথে হাঁটবে কি না, তা আগামী শুক্রবার অথবা সোমবার ( ৩০ জানুয়ারি ও ২ ফেব্রুয়ারি) চূড়ান্ত করা হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর পিসিবি চেয়ারম্যান ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানান, তিনি আইসিসি সংক্রান্ত সামগ্রিক বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেছেন। নাকভি লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সব বিকল্প খোলা রেখে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে আগামী শুক্রবার অথবা সোমবার (৩০ জানুয়ারি ও ২ ফেব্রুয়ারি)।’
মূলত মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। বিসিবি তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও আইসিসি কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি খুঁজে না পাওয়ার কথা জানায়। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেয় বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা।
এই সংকটকালীন সময়ে পাকিস্তান শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পিসিবি চেয়ারম্যান আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কটের চিন্তা করছে। তবে এমন বড় সিদ্ধান্তের জন্য তারা সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ছিল।
একদিকে পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করলেও অন্যদিকে বয়কটের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রাখায় বিশ্ব ক্রিকেটে এখন তোলপাড় চলছে। আইসিসি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) ওপর চাপ বাড়াতে পাকিস্তানের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এখন সবার চোখ আগামী সপ্তাহের দিকে। পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ডের পথ অনুসরণ করে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জৌলুস ও গ্রহণযোগ্যতা বড় ধরনের সংকটে পড়বে।
দেশ ছাড়ার গুজবের মধ্যেই বিসিবিতে হাজির বুলবুল
বিশ্বকাপ বয়কট করছে না পাকিস্তান
