স্বস্তির জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো বাংলাদেশ

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

টানা দুই ম্যাচ হেরে আগেই ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া করেছিল বাংলাদেশ। ফলে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে লক্ষ্য ছিল অন্তত হোয়াইটওয়াশ এড়ানো। সেই লক্ষ্য পূরণে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের পর ব্যাটারদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে স্বস্তির জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার শঙ্কাও দূর হয়েছে। যদিও তিন ম্যাচের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিকরা।

হারারের ম্যাচে আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ৪৯.৪ ওভারে ১৯৯ রানে অলআউট হয়। জবাবে বাংলাদেশ মাত্র ৩৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।

২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিম। উদ্বোধনী জুটিতে তারা যোগ করেন ১৫১ রান, যা জিম্বাবুয়ের মাটিতে বাংলাদেশের যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এই জুটিই মূলত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

দুর্দান্ত ছন্দে থাকা সৌম্য সরকার ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৬৯ রান করে চিভাঙ্গার বলে বোল্ড হন। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ১৫তম ওয়ানডে অর্ধশতক।

অন্য প্রান্তে তানজিদ হাসান তামিম খেলেন ম্যাচসেরা ইনিংস। শতকের খুব কাছে পৌঁছেও ৯৪ রানে থামতে হয় তাকে। দলের জয়ের জন্য যখন প্রয়োজন মাত্র ৪ রান, তখন বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি। ৮ চার ও ৩ ছক্কায় সাজানো তার ৯৪ রানের ইনিংস বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়। শেষ দিকে তাওহীদ হৃদয় শূন্য রানে ফিরলেও জয় পেতে আর কোনো সমস্যা হয়নি।

বাংলাদেশের বড় জয়ের পেছনে জিম্বাবুয়ের ফিল্ডিং ব্যর্থতারও ভূমিকা ছিল। স্বাগতিকরা ম্যাচে মোট পাঁচটি ক্যাচ হাতছাড়া করে, যার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় ইনিংস খেলেন সৌম্য ও তানজিদ।

এর আগে বল হাতে বাংলাদেশের সেরা পারফর্মার ছিলেন শরিফুল ইসলাম। একাদশে ফিরে ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এই পেসার। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা।

স্বাগতিকদের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন ওয়েসলি মাধভেরে। ইনিংসের শুরুতে জীবন পাওয়ার পর ৭৪ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় এই ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ দিকে ব্রাড ইভান্স ৪৩ বলে ৫০ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেও দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি। এছাড়া ইনোসেন্ট কাইয়া করেন ২৫ রান। বাকি ব্যাটারদের কেউ ২০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি।

ওয়ানডে সিরিজ শেষ হলেও সফর শেষ হয়নি বাংলাদেশের। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারানোর পর এখন সামনে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আগামী ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তিনটি ম্যাচ।

Attr/AHA
আরও পড়ুন