ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয়ে যায় তাদের যুদ্ধ। কাঁধে ব্যাগ, চোখে দৃঢ়তা, শরীরে ক্লান্তি হলেও মনে জেদ-নিজেদের আরও ভালো করার। মিরপুরের হোম অব ক্রিকেট যেন প্রতিদিনই সাক্ষী হয়ে উঠছে সেই দৃশ্যের! যেখানে বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নিজেদের ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন নিঃশব্দ অথচ নিষ্ঠার সঙ্গে।
গত বুধবার শুরু হওয়া এই ফিটনেস ক্যাম্প ঘিরেই এখন সাজানো হচ্ছে এশিয়া কাপ ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের প্রস্তুতি। তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং ধাপে ধাপে ফিটনেসের ভিত্তি মজবুত করেই এগোতে চাইছে দল। নাথান কেলির কড়া নজরদারিতে চলছে প্রতিটি সেশন। কেউ ফাঁকি দিতে গেলেই ধরা পড়ছে কোচের চোখে-যেমন দেখা গেল শামীম হোসেন পাটোয়ারীর ক্ষেত্রেও, যিনি একাধিকবার সতর্ক হয়েছেন ট্রেনিংয়ের মাঝে।
প্রথম দুদিনে ১৬ জন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন ক্যাম্পে। বাকি কয়েকজন ছিলেন টপ এন্ড সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায়। তাসকিন হজে, কেউবা এসেছে একটু দেরিতে। তবে সবাই এখন ধাপে ধাপে ক্যাম্পে যুক্ত হচ্ছেন। ফিটনেস ক্লাসে চলছে ডায়নামিক লেগ সুইং, আর্ম সুইং, নানা কসরত। পেশির জোর, সহনশীলতা, এবং শক্তি—সব কিছুতেই নজর বিসিবির।
সবচেয়ে চমক জাগানো ঘটনা ছিল দুই অভিজ্ঞ মুখের ক্যাম্পে অংশগ্রহণ। মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-দলে না থেকেও নিজেদের ফিট রাখার দায়বোধে হাজির হয়েছেন মিরপুরে। তরুণদের উৎসাহ দিতে, নিজেরাও ফিটনেস ধরে রাখতে, তাদের এই উপস্থিতি প্রশংসনীয়। মাহমুদুল হাসান জয়কে ব্যাটিং পরামর্শ দিতে দেখা যায় মাহমুদউল্লাহকে।
এই ক্যাম্প শুধু পরিশ্রমের নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রস্তুতিও। ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হবে স্কিল ক্যাম্প। তার আগে ১০ আগস্ট পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উড আসবেন। এরপর একে একে আসবেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্সসহ বাকিরা। এরপরই ফোকাস সরে যাবে সিলেটে, যেখানে ২০ আগস্ট থেকে শুরু হবে আরেকটি প্রস্তুতি ক্যাম্প। সেখান থেকেই ডাচদের বিপক্ষে সিরিজের মূল লড়াই শুরু ৩০ আগস্ট।

