ওপেকের একাধিপত্যে ধাক্কা, আমিরাতের বিদায়ে কি কমবে তেলের দাম

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম

বিশ্ব তেলের বাজারে কয়েক দশকের আধিপত্যে বড় ধরণের ঝাঁকুনি দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর প্রভাবশালী জোট ‘ওপেক’ (OPEC) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী এই দেশটির এমন সিদ্ধান্তে তেলের বৈশ্বিক রাজনীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরণের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের নির্ধারিত ‘উৎপাদন কোটা’ নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল। দেশটির বর্তমান তেল উৎপাদনের সক্ষমতা ওপেকের বেঁধে দেওয়া সীমার চেয়ে অনেক বেশি। নিজেদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সচল রাখতে আমিরাত চায় আরও বেশি তেল উৎপাদন ও রপ্তানি করতে। সেই লক্ষ্যেই জোট থেকে বেরিয়ে আগামী ১ মে থেকে স্বাধীনভাবে তেলের উৎপাদন মাত্রা নির্ধারণ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আবুধাবি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওপেকের মূল কাজই হলো জোটভুক্ত দেশগুলোর তেলের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট রাখা এবং দাম চড়া রাখা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বারবার অভিযোগ করেছেন যে, ওপেক তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে রাখছে।

এখন আমিরাত জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় তারা ওপেকের কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ করতে পারবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বর্তমানে তেলের বাজার যে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা আমিরাতের এই ‘স্বস্তির খবর’কে কতটা প্রভাবিত করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রচুর তেল উৎপাদন করে, তবুও তারা নিজেদের চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেলের জন্য এখনও মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ‘হালকা তেল’ সব ধরণের পেট্রোলিয়াম পণ্য তৈরির উপযোগী নয়। ফলে আমিরাতের এই স্বাধীন সিদ্ধান্ত মার্কিন জ্বালানি বাজারে নতুন ধরণের প্রতিযোগিতা ও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব বাণিজ্যের ধরনে বড় ধরণের স্থায়ী পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। ওপেকের মতো শক্তিশালী জোট থেকে আমিরাতের বেরিয়ে আসা সেই পরিবর্তনেরই একটি বড় উদাহরণ। এর ফলে ওপেকের প্রভাব কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ ভোক্তারা উপকৃত হতে পারেন।

FJ
আরও পড়ুন