স্ত্রীকে নিয়ে ৫৫টির বেশি দেশ ঘুরেছেন চিকিৎসক মহসিন

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:২০ পিএম

জাপান দিয়ে শুরু, সর্বশেষ ভ্রমণ মরক্কো। এর মধ্যে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ৫৫টির বেশি দেশ ঘুরে ফেলেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও ইউনিট প্রধান ডা. মো. মহসিন আলী শাহ। সম্প্রতি মরক্কো ভ্রমণ শেষে স্ত্রীকে নিয়ে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজেদের দীর্ঘ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই চিকিৎসক দম্পতি।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে নিজের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা জানিয়ে মহসিন আলী বলেন, ‘৫৪-৫৫টা দেশ ঘুরেছি। ঘোরাঘুরি সবসময় আমাদের পছন্দ। ঘুরতে খুবই ভালো লাগে। মজার মজার অভিজ্ঞতা হয়, কখনো আবার বিপদে পড়ি। প্রথম দিকে একাই যেতাম। শেষ ৫/৬ বছর ওয়াইফকে নিয়ে যাই। প্রথমে গেছি জাপান। সর্বশেষ মরক্কো।’

পাশে থাকা তাঁর স্ত্রী বলেন, ‘আমরা ৫৫টির বেশি দেশ ঘুরেছি। সৌদি আরব গেছি পাঁচবার। এর মধ্যে হজে দুইবার।’

ভিডিওটিতে মহসিন আলীর বিস্তারিত পরিচয় দেওয়া হয়নি। তাঁকে শুধু ‘সম্মানিত ডাক্তার’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে একজন জানান, মহসিন আলী তাঁর চিকিৎসক। এরপর তাঁর নাম ধরে খোঁজ করে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তাঁর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক নারী তাঁদের স্বামীকে মন্তব্যে ট্যাগ করে মহসিন আলী দম্পতির মতো ভ্রমণে যাওয়ার আবদার জানিয়েছেন। কেউ কেউ চিকিৎসকের স্ত্রীকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘তিনি ভাগ্যবতী নারী।’

আবার একজন মজা করে লিখেছেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম বরকে মেনশন দিব। পরে শুনি প্রথম দিকে ইনি একাই ঘুরতে যেতেন। তাই আর দিলাম না।’

দীর্ঘ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকলেও নিজের দেশের বিমানবন্দর নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মহসিন আলীর স্ত্রী। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিভিন্ন দেশ ঘুরি ঠিকই। কিন্তু আমাদের দেশের বিমানবন্দরে নামলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। এত নোংরা।’

দেশের পরিস্থিতি কীভাবে উন্নত করা যায়, সে বিষয়েও নিজের মতামত জানান মহসিন আলী। তিনি বলেন, ‘দেশটা ঠিক করতে হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে এবং টপ টু বটম সিনসিয়ারিটি, অনেস্টি থাকতে হবে।’

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ডা. মো. মহসিন আলী শাহ মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও ইউনিট প্রধান। তিনি রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। উভয় পরীক্ষাতেই তিনি ফার্স্ট ডিভিশন অর্জন করেন।

পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন মহসিন আলী। এরপর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোরোগবিদ্যায় এম. ফিল ও এমডি দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা ও আত্মহত্যা-সংক্রান্ত চিকিৎসায় তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।

এএম
আরও পড়ুন