ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে ফ্রান্স অংশ না নেওয়ায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে স্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ম্যাক্রোঁও। ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন ও স্ববিরোধী মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়ায় এক রাষ্ট্রীয় সফরকালে তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের এই অসংলগ্ন আচরণ বিশ্বজুড়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এই মন্তব্যগুলো শালীন নয় এবং মানসম্মতও নয়।
ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আপনাকে সিরিয়াস হতে হবে। যখন আপনি কোনো বিষয়ে গুরুত্ব দিতে চান, তখন আগের দিন যা বলেছেন, পরের দিন তার উল্টোটা বলতে পারেন না। আর সম্ভবত আপনার প্রতিদিন কথা বলাও উচিত নয়।
ম্যাক্রোঁ অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ন্যাটোর প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ‘প্রতিদিন সন্দেহ’ তৈরি করে এই জোটকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, যদি আপনি নিজের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রতিনিয়ত সন্দেহ তৈরি করেন, তবে আপনি এর মূল ভিত্তিকেই অন্তঃসারশূন্য করে ফেলবেন। বর্তমানে সব দিকেই প্রচুর আজেবাজে কথা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধে মিত্ররা সমর্থন না দেওয়ায় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে বের করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি এই প্রতিরক্ষা জোটকে একটি ‘কাগজের বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোতে ‘ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার’ খরচ করলেও বিনিময়ে কিছুই পায়নি।
সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার মার্কিন পরিকল্পনাকে ‘অবাস্তব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শক্তি প্রয়োগ করে প্রণালিটি সচল করা অসম্ভব। কারণ, এটি করতে দীর্ঘ সময় লাগবে এবং সেখানে থাকা ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কারণে অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চল হুমকির মুখে পড়বে।
ম্যাক্রোঁ মতে, হরমুজ প্রণালি সচল করার একমাত্র পথ হলো ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর জন্য সবার আগে একটি যুদ্ধবিরতি ও পুনরায় আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নৌবাহিনী পুরো ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে ইরান এখনো বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। গত সপ্তাহে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও তাদের মিত্র ছাড়া সবাই এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।
গত বুধবার (১ এপ্রিল) এক ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ম্যাক্রোঁ ও তার স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ম্যাক্রোঁ তার স্ত্রীর কাছ থেকে ‘খারাপ আচরণের শিকার’ এবং ২০২৫ সালের একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ টানেন। যেখানে ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে স্বামীর দিকে হাত তুলতে দেখা যায় বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দুই নেতার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও, গত এক বছরে আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। ব্যক্তিগত পর্যায়েও এই দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ম্যাক্রোঁকে নিয়ে এর আগেও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
সূত্র: সিএনএন
ইরানে প্রায় দেড় লাখ ঘরবাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবন বিধ্বস্ত: রেড ক্রিসেন্ট
স্যাটেলাইট চিত্রে সৌদি ঘাঁটিতে ধ্বংস হওয়া মার্কিন নজরদারি বিমানের ছবি প্রকাশ
২৪ ঘণ্টায় মার্কিন ঘাঁটিতে ২৩ হামলা
