সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইসরায়েলি নাগরিক হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখতে চান। ফলে নেতানিয়াহুকে এমন একটি যুদ্ধবিরতি রক্ষা করতে হচ্ছে, যা তার ইচ্ছা শুরু হয়নি এবং যা তিনি উদযাপন করতে পারছেন না।
ট্রাম্পের সরাসরি চাপের মুখে নেতানিয়াহুর দ্রুত, যদিও অনিচ্ছুক, সমর্থন এই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে যে তার কৌশলগত স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়েছে।
সমালোচক ও ডানপন্থী মিত্ররা বলছেন, যুদ্ধবিরতিগুলো ইসরায়েলি কৌশল দ্বারা নির্ধারিত না হয়ে, বরং বাহ্যিকভাবে প্রভাবিত, যেখানে গাজা, ইরান এবং এখন লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাইরের চাপেই নির্ধারিত হচ্ছে।
ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট বলেছেন, ‘যুদ্ধবিরতি অবশ্যই শক্তিশালী অবস্থান থেকে আসতে হবে এবং এটি ইসরায়েলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হতে হবে, যা আলোচনার সুবিধার্থে দর কষাকষির সুযোগ তৈরি করবে। একটি ধারা দেখা যাচ্ছে যেখানে গাজায়, ইরানে এবং এখন লেবাননে আমাদের ওপর যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
ট্রাম্প নিজেও এই প্রভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘ইসরায়েল আর লেবাননে বোমা হামলা করবে না। যুক্তরাষ্ট্র তাদের তা করতে নিষেধ করেছে। যথেষ্ট হয়েছে!’
এই বিবৃতিটি অস্বাভাবিকভাবে সরাসরি, যা এমন একজন প্রেসিডেন্টের ইঙ্গিত দেয় যিনি নির্বাচনের আগে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শনে বদ্ধপরিকর, এমনকি মিত্র দেশের সঙ্গে টানাপোড়েন প্রকাশ পেলেও।
এই পরিস্থিতি একটি বড় পরিবর্তনের প্রতিফলন। এর আগে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে রাজি করাতে সক্ষম হয়েছিলেন, এই যুক্তি দিয়ে যে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি দুর্বল এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকিকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।
তবে, বাস্তবে নেতানিয়াহুর আশ্বাসগুলো ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং বর্তমান যুদ্ধবিরতি নেতানিয়াহুর কৌশলগত বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ‘যুদ্ধটা কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নেতানিয়াহু প্রভাবিত করেছিলেন। কিন্তু এর সমাপ্তি তিনি প্রভাবিত করতে পারবেন না।’
নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নেতানিয়াহু জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের ভেতরে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল ধরে রাখবে। তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই এখনও সমস্যা রয়েছে। তাদের কাছে এখনো রকেট আছে।’
ইসরায়েলি প্রাক্তন উপদেষ্টা নিমরোদ নোভিক মন্তব্য করেছেন, ‘এখানে একটি জোরালো মত ছিল যে, ইরানের ক্ষেত্রে, ট্রাম্প চাইলে নেতানিয়াহুর যুদ্ধবিরতিতে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না, কিন্তু লেবাননের ক্ষেত্রে তিনি তা অমান্য করবেন।’
নোভিক বলেন, ‘তিনি তা করতে পারবেন না। বিশেষ করে নির্বাচনের বছরে, যখন তিনি সম্ভাবত ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছেন তার পক্ষে প্রচারণার জন্য।’
লেবাননে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। যদিও কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন যে সামরিক সাফল্য একটি স্থিতাবস্থায় পৌঁছেছে, অন্যরা এই যুদ্ধবিরতিকে ভঙ্গুর হিসেবে দেখছেন, যা আলোচনার ওপর নির্ভরশীল এবং নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে তা প্রতিহত করে আসছেন।
এফরন বলেন, ‘নেতানিয়াহুর বড় বড় প্রতিশ্রুতিগুলো শুধু সামরিক উপায়ে অর্জন করা সম্ভব নয়। যদি ট্রাম্প ইসরায়েলকে আলোচনায় ঠেলে দেন, তাহলে খুব ভালো। ইসরায়েল স্বেচ্ছায় আলোচনায় যাবে না। নেতানিয়াহুর অধীনে তো নয়ই।’
ইসরায়েলি গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে শাস্তির মুখে পোলিশ আইনপ্রণেতা