ইরানের পথে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান আসিম মুনির

আপডেট : ২৩ মে ২০২৬, ১২:৩২ এএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার গুঞ্জনের মধ্যেই এবার ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। 

উচ্চপর্যায়ের একটি নিরাপত্তা প্রতিনিধিদল নিয়ে আকস্মিক এই তেহরান সফরে যাচ্ছেন তিনি। বৈশ্বিক রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে গত তিন দিন ধরে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। 


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের পরপরই সেনাপ্রধানের জরুরি তেহরান যাত্রা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।

সফর নিয়ে বিশ্লেষকদের ভিন্নমত: জটিলতা নাকি চূড়ান্ত সফলতা?

কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা জেনারেল আসিম মুনিরের এই সফরকে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করছেন:

আলোচনায় জটিলতার শঙ্কা: কিছু বিশ্লেষকের মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত তিন দিনের বেসামরিক আলোচনা হয়তো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে উদ্ভূত জটিলতা দূর করতে খোদ সেনাপ্রধানকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা: তবে অধিকাংশ সামরিক কৌশলবিদ ও বিশ্লেষকদের ধারণা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা মনে করছেন, বেসামরিক পর্যায়ের আলোচনা এতটাই সফল হয়েছে যে, এখন একটি চূড়ান্ত নিরাপত্তা ও শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেই পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের এই জরুরি তেহরান সফর।

ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও জেনারেল মুনিরের ভূমিকা

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল আসিম মুনিরের এই সফর চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত। এর আগের তেহরান সফরেও তিনি ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি দেশটির প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি বৈঠক করেছিলেন।

বিশেষ করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করার ক্ষেত্রে তার বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই শান্তি চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব কতটা অপরিসীম, তা ইরানি সামরিক নেতৃত্বকে বোঝাতে তিনি সফল ভূমিকা রাখছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেষ মুহূর্তের কাউন্টডাউন

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যখন একটি ব্যাপকভিত্তিক যুদ্ধবিরতি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খসড়া চুক্তি ঘোষণার কাউন্টডাউন চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের এই তেহরান সফরকে চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার শেষ ধাপ বা ফাইনাল টাচ হিসেবেই দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।

HN
আরও পড়ুন