এবার সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে আক্রমণ চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরানের মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ হামলা চালায় আইডিএফ।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের মূল টার্গেট ছিল ইরানের অভ্যন্তরীণ সামরিক ঘাঁটিগুলো। এদিকে ইরানি বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ নিশ্চিত করেছে যে, রাজধানী তেহরানের একাধিক স্থানে আজ ভোরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এর আগে, গতকাল রাতে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে আকস্মিক মিসাইল হামলা হামলা চালায় ইরান। ধারণা করা হচ্ছে ওই হামলার পাল্টা জবাবেই এই পদক্ষেপ নিল তেল আবিব।
জানা গেছে, লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গতকাল বৈরুতে একটি বড়ো ধরনের বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এই আঘাতের প্রতিঘাত হিসেবেই গতকাল রাতে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছোড়ে তেহরান। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দেয়, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা তারা মুখ বুজে সহ্য করবে না এবং পুনরায় আক্রমণ চালানো হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের সেই মিসাইল ছোঁড়ার পর রাত থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইসরায়েলও তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নেয়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঝরাতে হস্তক্ষেপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দফায় দফায় টেলিফোনে কথা বলেন এবং আপাতত পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।
ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকেও আশ্বস্ত করেছিলেন যে ইসরায়েল এখনই হামলা করছে না এবং একজন অজ্ঞাত ইসরায়েলি কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু সেই আলোচনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ট্রাম্পের অনুরোধ উপেক্ষা করে ইরানে এই বিধ্বংসী হামলা চালাল ইসরায়েল, যা এই অঞ্চলে পুরোদমে যুদ্ধ শুরুর নতুন আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল
নেতানিয়াহুকে ফোনে বলবো ইরানে যেন হামলা না হয়
চুক্তি হোক বা না হোক, ইরানের ইউরেনিয়াম ধ্বংস করবে ওয়াশিংটন