ডেলিভারিবয় থেকে সেরা কবি: চিনে ইতিহাস গড়লেন ওয়াং জিবিং

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম

ক্ষুধার অন্ন জোগানোর ফাঁকে সাহিত্যচর্চা: চীনের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন ডেলিভারিম্যান ওয়াং জিবিং
দিনভর বাইক ছুটিয়ে শহরের অলিতে-গলিতে খাবার পৌঁছে দেওয়াই তাঁর কাজ। তবে কাজের ফাঁকে ট্রাফিক সিগন্যালে কিংবা টিফিন ব্রেকে কাগজের টুকরোয় কবিতা লিখে রাখতেন ৫৬ বছর বয়সী ওয়াং জিবিং। সেই অদম্য সাহিত্যচর্চাই এবার তাঁকে এনে দিল চীনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য সম্মাননা।

কবিতা সংকলন ‘লো ফ্লাইট’-এর জন্য দেশটির অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘লু শুন সাহিত্য পুরস্কার’ জিতে নিয়েছেন ওয়াং। আধুনিক চীনা সাহিত্যের জনক লু শুনের স্মরণে প্রবর্তিত এই পুরস্কার জয় তাঁর জীবনের অন্যতম বড় এক প্রাপ্তি।

জিয়াংসু প্রদেশের এক দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা ওয়াংয়ের জীবন মোটেও সহজ ছিল না। অভাবের তাড়নায় কিশোর বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে নির্মাণশ্রমিক, হকার ও আবর্জনা সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হন তিনি। এরপর ২০১৯ সাল থেকে শুরু করেন খাবার সরবরাহের কাজ।

জীবিকার তাগিদে হাড়ভাঙা খাটুনির মাঝেও গত এক দশক ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত কবিতা ও প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি। তাঁর নিখুঁত লেখনীতে ফুটে উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষের ক্লান্তি, জীবনের টানাপোড়েন এবং অপ্রকাশিত হাজারো স্বপ্নের গল্প।

২০২২ সালে ভুল ঠিকানায় খাবার দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির অভিজ্ঞতা থেকে লেখা ‘ম্যান ইন আ হারি’ কবিতাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচণ্ড আলোড়ন তোলে। এরপর ২০২৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বহুল আলোচিত বই ‘লো ফ্লাইট’, যা তৈরি হয়েছে প্রায় ২০০ জন ডেলিভারিম্যান কর্মীর জীবনকাহিনীর ওপর ভিত্তি করে।

বইটির একটি জনপ্রিয় পঙ্‌ক্তি ছিল— "কে বলে ডানা মেললেই উঁচুতে ওড়া? নিচুতে ওড়াও তো এক ধরনের ওড়া।"

পুরস্কার পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ওয়াং জানান, ফলাফলের আগে মানসিক চাপে থাকলেও এই পুরস্কার তাঁর সাধারণ জীবনযাত্রাকে বদলে দেবে না। তিনি এখনো রাস্তায় নেমে খাবার সরবরাহ করার এই কাজটিকে ভালোবাসেন এবং সাধারণভাবেই বাঁচতে চান।

আন্তর্জাতিক পাঠকদের কাছে তাঁর ভাবনা পৌঁছে দিতে চলতি বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে বইটির ইংরেজি অনুবাদ।

উল্লেখ্য, চীনে সম্প্রতি হু আনিয়ান, চেন নিয়ানশি কিংবা ইউ শিউহুয়ার মতো খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের মাঝ থেকেই একদল নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ঘটছে। ওয়াং জিবিংয়ের এই অর্জন সেই শ্রমিকদের সাহিত্যের ধারাকেই বিশ্বমঞ্চে আরও একধাপ এগিয়ে নিল।

সূত্র: বিবিসি (BBC)

HN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত