যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে সোনা সরাচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলো

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৪ এএম

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) থেকে নিজেদের সোনা নিজের দেশে বা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ডাচ সেন্ট্রাল ব্যাংক (ডিএনবি) জানিয়েছে, অর্থনৈতিক সংকট বা জরুরি পরিস্থিতিতে সোনা যাতে দ্রুত ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ডাচ সেন্ট্রাল ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় গচ্ছিত ৩১৩ টন সোনার মধ্যে প্রায় ৮৬ টন সোনা সরিয়ে লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে স্থানান্তর করেছে।

ডাচ ব্যাংকটির গভর্নর ওলাফ স্লিজপেন জানান, সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দেশের সার্বিক সুরক্ষা বাড়াতেই উত্তর আমেরিকা থেকে এই পরিমাণ সম্পদ সরানো হয়েছে।

একই কৌশলের অংশ হিসেবে ফ্রান্স তাদের সম্পূর্ণ সোনা দেশের মাটিতে ফিরিয়ে এনেছে এবং জার্মানির বুন্ডেসব্যাংকও নিউ ইয়র্ক ও প্যারিস থেকে ২০০ টনের বেশি সোনা দেশে ফিরিয়ে এনেছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের প্রধান বাজার কৌশলবিদ জোসেফ ক্যাভাতোনি জানান, এটি কেবল সরাসরি কোনো যুদ্ধের আশঙ্কায় নয়; বরং বিশ্ববাজারের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হারের অস্থিরতা এবং সংকটের মুহূর্তে সোনা দ্রুত কেনাবেচা বা লেনদেন করার সুবিধার জন্যই ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ট্রেডিং হাব বা বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে লন্ডন বিখ্যাত হওয়ায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা জমানোর জন্য অন্যতম পছন্দনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

গত চার বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বার্ষিক গড়ে ১,০০০ টন করে সোনা কিনেছে, যা আগের দশকের প্রায় দ্বিগুণ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার দিনে সোনা একটি 'নিরাপদ সম্পদ' হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা এবং দাম প্রতিনিয়ত রেকর্ড ছুঁচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালের শেষের দিকে প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম ৪,৯০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

ওয়াইএ
আরও পড়ুন