আলোচনার টেবিল ছাড়বে না ইরান: পেজেশকিয়ান

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরও বারবার হামলার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান কূটনৈতিক আলোচনা থেকে সরে আসবে না। যুদ্ধের অবসান এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের জনগণের অধিকার নিশ্চিত করাই আলোচনার মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তুর্কমেনিস্তানে কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটসের (সিআইএস) নেতাদের সম্মেলন এবং কাস্পিয়ান সাগরবিষয়ক পরিবেশ সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম এ তথ্য প্রকাশ করে।

পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু প্রতিবার আলোচনার পরই যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালায় বলে তাঁর অভিযোগ। তা সত্ত্বেও তেহরান আলোচনার টেবিল ছাড়বে না কিংবা সংলাপের পথ পরিত্যাগ করবে না।

প্রস্তাব বিনিময়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বৈঠকের উদ্যোগ

ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, তেহরান ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। ইরান সেগুলোতে কিছু সংশোধন এনেছে। সংশোধনের কাজ শেষ হলে বিদ্যমান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসে প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা ও সমন্বয় করবেন।

তবে প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত বিষয়, সংশোধনের ধরন কিংবা সম্ভাব্য বৈঠকের সময়সূচি তিনি প্রকাশ করেননি।

পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে স্পষ্ট, সামরিক সংঘাতের মধ্যে থেকেও ইরান কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ ধরে রাখতে চায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে ছাড় না দেওয়ার অবস্থানও তুলে ধরেছে তেহরান।

রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট দুই দেশের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বাণিজ্য, অর্থনীতি ও মানবিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি যৌথ কৌশলগত কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান। বিদ্যমান সমন্বয় ও সহযোগিতাকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য বর্তমান সময়কে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একতরফা নীতির বিরোধিতা এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের পক্ষেও বক্তব্য দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের ওপর নিজেদের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। পেজেশকিয়ান এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার অবস্থানের প্রশংসা করেন।

যুদ্ধ বন্ধে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে মস্কো

বৈঠকে পুতিন বলেন, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে বহু কৌশলগত কর্মসূচি ও নীতিগত বিষয়ে মিল রয়েছে এবং দুই দেশের সহযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। তিনি ইরানের সঙ্গে মানবিক সম্পর্ক ও বহুপক্ষীয় যোগাযোগ আরও গভীর করার বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পুতিনের মতে, আঞ্চলিক সংকটের সমাধান এবং চলমান যুদ্ধের অবসান এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সংকট নিরসনে কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে এবং ইরানও যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে।

রাশিয়া কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন পুতিন। তবে মস্কোর এই উদ্যোগের বাস্তব ফলাফল কী হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান এবং আলোচনার অগ্রগতির ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতির সমালোচনা

পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যকে বহুপক্ষীয় সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যেতে হবে এবং একতরফা নীতির বিস্তার ঠেকাতে হবে। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অভ্যন্তরীণভাবে নির্ধারিত নীতিও অন্য দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের প্রচেষ্টা যুদ্ধ বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে দেশটির জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি একতরফা পদক্ষেপের পথে এগোয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত সমাধান সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পুতিন বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনির প্রতি শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করেন।

আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপে

পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে কূটনৈতিক আলোচনায় থাকার অঙ্গীকারের পাশাপাশি ইরানের অধিকার রক্ষার দৃঢ় অবস্থান উঠে এসেছে। অন্যদিকে, পুতিন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন।

তবে দুই দেশের নেতাদের বক্তব্যের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা কতটা এগোবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রস্তাব সংশোধন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বৈঠক এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপই আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন