ইরানি নেতাদের হত্যা করা খুবই সম্মানজনক: ট্রাম্প

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের সদস্য এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যা করাকে ‘খুবই সম্মানজনক’ কাজ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিতর্কিত ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বার্তায় দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ও তার মিত্ররা ইরানের ‘সন্ত্রাসী সরকারকে’ সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি লেখেন, ‘ইরানের নৌবাহিনী এখন পানির নিচে (ডুবে গেছে), তাদের বিমান বাহিনী বলতে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার ফুরিয়ে আসছে এবং এই সরকারের নেতারা একে একে পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছেন।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘আমাদের কাছে আছে অতুলনীয় সমরাস্ত্র, সীমাহীন গোলাবারুদ এবং প্রচুর সময়। এই উন্মাদ গোষ্ঠীর শেষ কী হয়, তা আপনারা দেখবেন। গত ৪৭ বছর ধরে তারা নিজেদের দেশ এবং বিশ্বজুড়ে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে আসছে। এখন আমি, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাদের হত্যা করছি। এটি অত্যন্ত সম্মানজনক একটি কাজ।’

উল্লেখ্য, গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা চলে। কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হওয়ার ঠিক পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইসরায়েলও শুরু করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’।

যুদ্ধের প্রথম দিনই তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং অন্তত ৪০ জন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও থেমে নেই। তারা ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশ- সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের এমন কঠোর মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। সূত্র: এএফপি

আরও পড়ুন