হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, দাবি ট্রাম্পের

আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

নৌ-অবরোধের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পাশাপাশি তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে এও বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং তেহরানের অস্বীকৃতি সত্ত্বেও মার্কিন বাহিনী শেষ পর্যন্ত দেশটির উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিজেদের কবজায় নিয়ে নেবে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধ একশো ভাগ সফল হয়েছে এবং এটি ওই কৌশলগত জলপথে একটি ‘ইস্পাত প্রাচীর’ বা স্টিল ওয়াল হিসেবে কাজ করছে, যা শত্রুপক্ষের সব ধরনের নৌযান চলাচলকে অবরুদ্ধ করে দিয়েছে।

তবে এই কঠোর অবরোধের মধ্যেও ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক এই নৌপথকে উন্মুক্ত ও শুল্কমুক্ত দেখতে চায়, যাতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালির ওপর এখন ওয়াশিংটনের শতভাগ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র চরম কোনো পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করবে না। 

এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রায় এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর ইরান তাদের অস্ত্র তৈরির উপযোগী সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুদ মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছে। সেই মজুদ উদ্ধারের প্রত্যয় ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনীর ওই ইউরেনিয়ামের কোনো প্রয়োজন বা লোভ নেই, তবে তারা এটি ইরানের হাতেও রাখতে দেবে না। প্রয়োজনে তা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ধ্বংস করে ফেলা হবে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা আরও কিছুটা রিফাইন বা পরিশোধিত করলে অনায়াসেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। ফলে তেহরানের এই ইউরেনিয়ামের মজুত উদ্ধার বা তা নিষ্ক্রিয় করাই এখন ট্রাম্পের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই বিরোধকে কেন্দ্র করেই বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনী শক্ত অবরোধ ধরে রেখেছে।

এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও ইরান নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো অংশই যেন সীমানার বাইরে না যায়। চলমান এই কূটনৈতিক সংকটের মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তেহরান সফর করেছেন। 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সফরের মাধ্যমে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর ক্ষেত্রে হয়তো ভালো কোনো অগ্রগতি আসবে।

AHA
আরও পড়ুন