লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলা ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশটিতে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ক্রমাগত বোমাবর্ষণের মুখে ইতোমধ্যে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন, যার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই শিশু।
বুধবার (১৮ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক এই আশঙ্কাজনক তথ্য জানান।
জাতিসংঘের মুখপাত্র জানান, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত থেকে বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল পর্যন্ত মধ্য বৈরুতে নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে জনবহুল এলাকার বহুতল আবাসিক ভবন ধসে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শুধু সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িই নয়, ইসরায়েলি বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু থেকে বাদ পড়েনি চিকিৎসাকেন্দ্রও। এদিন তিনটি সরকারি হাসপাতালে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে, যাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন।
ফারহান হক বলেন, ‘বর্তমানে লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩ লাখ ৬৭ হাজার শিশু রয়েছে, যা মোট বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।’ লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশন (UNIFIL) জানিয়েছে, আকাশপথের পাশাপাশি লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি স্থল বাহিনীর উপস্থিতি এবং সংঘর্ষ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
লেবানন কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৯১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১১ জন শিশু এবং ৬৭ জন নারী রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ২ হাজার ২২১ জন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর লেবাননে এই সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। জবাবে হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ চালায়। সংঘাতের এই নতুন ঢেউ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। জাতিসংঘ অবিলম্বে হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ মোজতবা খামেনির
ব্রাজিলে পুলিশের ভয়াবহ অভিযানে নিহত ৮
