ট্রাম্পের দাবি ও ইরানের অনড় অবস্থানের নেপথ্যে কী

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ, তখন কূটনৈতিক টেবিলে চলছে এক অদ্ভুত ধোঁয়াশা। এক পক্ষ অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করছেন যে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলছে। অন্যদিকে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে—এমন কোনো আলোচনাই হচ্ছে না। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মাঝে সত্য আসলে কোথায়? কাতার থেকে এক বিশেষ বিশ্লেষণে বিষয়টি তুলে ধরেছেন বিবিসির নিরাপত্তা সংবাদদাতা ফ্রাঙ্ক গার্ডনার।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি ‘আল-উদেইদ’ কাতারে অবস্থিত। আবার এক মাস আগেও ইরানের সঙ্গে কাতারের চমৎকার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বর্তমানে কাতার সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কোনো চুক্তির প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে না।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মজিদ আল-আনসারি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন আমেরিকানদের সঙ্গে কথা বলি, কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের একমাত্র অগ্রাধিকার হলো আমাদের নিজস্ব ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

সরাসরি কোনো আলোচনা না হলেও ওয়াশিংটন থেকে তেহরানে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তুরস্ক, পাকিস্তান এবং মিশরের মতো দেশগুলোর কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয় রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বার্তা আদান-প্রদান আর ‘আনুষ্ঠানিক আলোচনা’ এক বিষয় নয়।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে, ইরান যুদ্ধের ধকল সইতে পারছে না এবং তারা একটি চুক্তির জন্য ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছে। কিন্তু ফ্রাঙ্ক গার্ডনারের মতে, ট্রাম্প যত বেশি বিশ্বকে বলছেন ইরান আলোচনার জন্য কাঙাল, ইরান তত বেশি আলোচনার টেবিল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। নিজের ইগো বা আত্মমর্যাদা রক্ষার খাতিরে তেহরান এখন আরও বেশি অনড় অবস্থান নিচ্ছে।

ইরানের বর্তমান শাসক গোষ্ঠী মনে করছে, এত বড় হামলার পরও যেহেতু তারা টিকে আছে, তাই তারা এখন আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। এ কারণেই তারা এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর আগের চেয়েও বেশি নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ‘চুক্তি হবেই’ এমন আত্মবিশ্বাস আর ইরানের ‘কোনো আলোচনা নয়’—এই দুই মেরুর অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সমাধান কোন দিকে যাবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

DR
আরও পড়ুন