মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পেছনে দায়ী যুক্তরাষ্ট্র: গালিবাফ

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সংঘাত, অস্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি পরিবহনপথে বিঘ্নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। একই সঙ্গে ইরান ও ইরাককে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ইরাক সফরের অংশ হিসেবে দেশটির সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ফায়েক জায়দানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন গালিবাফ। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সম্ভাবনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

ইরাকি নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় গালিবাফ বলেন, ইরান ও ইরাকের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামি ও আরব দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক রাজনীতিতেও দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গালিবাফের মতে, দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় ইরান ও ইরাকের মধ্যে সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

এ সময় মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটনের নীতিই অঞ্চলে একের পর এক সংঘাত ও অস্থিরতা তৈরি করছে।

পারস্য উপসাগরের জ্বালানি পরিবহনপথে সাম্প্রতিক বিঘ্নের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন গালিবাফ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর প্রভাব পড়ছে উপসাগরীয় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথেও।

ইরানের এই শীর্ষ রাজনীতিকের বক্তব্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জ্বালানি পরিবহন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ কমানোই দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ইরাক সফরে গালিবাফের ধারাবাহিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে তেহরান ও বাগদাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে দুই দেশের সম্ভাব্য ভূমিকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় জ্বালানি রুটের নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: ডন

AS
আরও পড়ুন