'এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরে গেছে মার্কিন জাহাজ'

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও বর্তমানে কোনো মার্কিন জাহাজ নেই বলে দাবি করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান কমান্ডারের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী ফাদাভি। তিনি বলেন, এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরে গেছে মার্কিন বাহিনী এবং এটি ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও গার্ড বাহিনীর সক্ষমতার ফল।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে একটি বিশেষ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ফাদাভি বলেন, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালি দৃঢ়ভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার দাবি, ১৮৫৩ সাল থেকে পারস্য উপসাগরে মার্কিন উপস্থিতি থাকলেও এবারই প্রথম ওই অঞ্চল, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর ও এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন জাহাজ নেই।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির মূল ভিত্তি নৌবাহিনী। কারণ এর সঙ্গে স্থল ও আকাশ সক্ষমতাও যুক্ত। তাই মার্কিন সামরিক শক্তির প্রধান প্রকাশ ঘটে নৌবাহিনীর মাধ্যমে। ফাদাভির ভাষ্য, মার্কিন বাহিনী ইরানের সীমান্ত থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরে গেছে এবং এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে নয়, বরং ইরান ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শক্তির কারণে ঘটেছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন নিয়েও বক্তব্য দেন ফাদাভি। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রণালির দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে এবং ইরান ঘোষিত এলাকার বাইরে সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতার কথা বলছে। তবে হরমুজ দিয়ে যে পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, তার তুলনায় এই পরিমাণ খুবই কম বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফাদাভি বলেন, আগে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। এর বাইরে অনানুষ্ঠানিকভাবেও কিছু তেল রপ্তানি করা হতো। তার দাবি, বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির ৪৬ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেত। বিশ্বব্যাপী তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ দিয়ে যায়, এমন প্রচলিত হিসাবের সঙ্গে বিষয়টি গুলিয়ে ফেলা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্য, বর্তমানে এই পথে তেল রপ্তানি বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে, যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ওপর।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফাদাভি বলেন, ভৌগোলিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই অঞ্চলের কোনো সরাসরি সংযোগ নেই এবং দেশটি হরমুজ থেকে ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। তার দাবি, হরমুজ প্রণালির নিয়ম ইরান ও ওমানকেই নির্ধারণ করতে হবে। দুই দেশ এ বিষয়ে একমত হয়েছে এবং বর্তমানে সেই নিয়মই কার্যকর করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিপুল আর্থিক ও সামরিক শক্তি এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের সম্মিলিত সামরিক বাজেটের সমান সামরিক বাজেট থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের দাবি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি মার্কিন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও। এ কারণেই হরমুজ প্রণালির বিষয়টি আলোচনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উত্তেজনা বাড়ানোর প্রসঙ্গে ফাদাভি বলেন, আকাশশক্তি দিয়ে কোনো অঞ্চলে হামলা চালালেও সেখানে শারীরিক উপস্থিতি না থাকলে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে উত্তেজনা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে নৌবাহিনীর জাহাজ ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

মার্কিন জাহাজগুলো ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও সতর্ক করেন ফাদাভি। তার দাবি, মার্কিন বাহিনী একাধিকবার তাদের যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু সেগুলো গার্ড বাহিনীর নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর হামলার মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, উত্তেজনা আরও বাড়ানোর যেকোনো পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতিকর হবে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন