হুথিদের হামলায় আবারও বন্ধ সৌদির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

নতুন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবারও বন্ধ হয়ে গেছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন। দেশটির জ্বালানি খাতের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, রিয়াদের পূর্বে খুরাইসের একটি পাম্পিং স্টেশনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর পাইপলাইনটির মাধ্যমে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) এএফপিকে ওই সূত্র জানায়, রোববার পূর্ব রিয়াদের খুরাইস এলাকায় পাইপলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশনে হামলা চালানো হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই স্থাপনায় আগে হামলা হয়নি এবং এবার সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর পরই পাইপলাইন দিয়ে তেল প্রবাহ আবার বন্ধ হয়ে যায়।

এর এক দিন আগে ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর রিয়াদ ও খুরাইস এলাকার স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে দুটি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তার দাবি, হামলাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে বড় ধরনের আগুন সৃষ্টি করে।

তবে হুথিদের ওই দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলোকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু করার পর সৌদির তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে এই পাইপলাইনটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পণ্যবাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাইপলাইনটির তেল প্রবাহ বন্ধ ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পরও পাইপলাইনটি কয়েক দফা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার দাবি করে হুথিরা জানিয়েছে, সৌদি হামলার জবাব হিসেবে তারা এসব অভিযান চালাচ্ছে। ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, আগের ১২ ঘণ্টায় ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং আল-জাওফ, তাইজ, আমরান, হাজ্জাহ ও সাদা প্রদেশে সৌদি বাহিনী ৫০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই দেওয়া হয়নি।

হুথি মুখপাত্র আরও বলেন, সৌদি হামলা বন্ধ এবং ইয়েমেনের ওপর তাদের ভাষায় অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সৌদি স্থাপনা ও তেল অবকাঠামোয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনর্দখলে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। জুলাইয়ে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর এবং সেপ্টেম্বরে লড়াই তীব্র হওয়ার মধ্যে ইয়েমেন সরকার হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।

গত সপ্তাহে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোট পবিত্র নগরী মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করেছিল। জোটের দাবি, ওই স্থাপনা মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। হামলায় একটি ট্রান্সফরমার অচল হলেও সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রভাব পড়েনি বলে জানানো হয়। হুথিরা ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

এএস
আরও পড়ুন