হরমুজ ইস্যুতে এবার ইউরোপীয় মিত্রদের ট্রাম্পের আল্টিমেটাম 

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালি’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জার্মান সাময়িকী ডার স্পিগেলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। পরে রুটে ইউরোপীয় দেশগুলোকে জানান, ওয়াশিংটন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ‘সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার’ প্রত্যাশা করছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কথা বলা ইউরোপীয় কূটনীতিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানায় সাময়িকীটি।

কূটনীতিকরা এই অনুরোধকে ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত আল্টিমেটাম’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, মিত্রদের অস্পষ্ট ‘রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি’ আর গ্রহণযোগ্য নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটো মিশন শুরুর জন্য চাপ দিচ্ছে, নাকি দেশগুলোকে পৃথকভাবে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের কথা বলেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

জার্মানিসহ ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠাতে অনীহা দেখিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি। তারা সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠালে পরিস্থিতির উন্নতির বদলে যুদ্ধের পরিধি বাড়তে পারে।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেন, সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য তাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) কোনও সুস্পষ্ট কৌশল নেই। তিনি জানান, কেবল যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট এবং জার্মান পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষেই জার্মানি প্রণালিটির নিরাপত্তায় সহায়তা করতে পারে।

এদিকে ইরান যুদ্ধে ন্যাটোর সহায়তা না পেয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। বুধবার (৮ এপ্রিল) রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন,  ‘আমাদের যখন তাদের প্রয়োজন ছিল, তখন ন্যাটো পাশে ছিল না। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে তারা থাকবে না।’

সূত্র: আনাদোলু

AHA
আরও পড়ুন