ইন্দোনেশিয়ায় মারাপি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, আকাশজুড়ে ঘন ছাই

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর একটি মাউন্ট মারাপি সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে অগ্ন্যুৎপাত ঘটিয়েছে। এতে আগ্নেয়গিরিটির চূড়া থেকে প্রায় ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার উঁচুতে ঘন ধূসর ছাইয়ের স্তম্ভ আকাশে উঠে যায়। এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আন্তারা নিউজ এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম সুমাত্রায় প্রদেশে অবস্থিত মারাপি আগ্নেয়গিরির এই অগ্ন্যুৎপাত ভোরের দিকে ঘটে। আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ পোস্টের সিসমোগ্রাফে এর কম্পন রেকর্ড করা হয়, যেখানে সর্বোচ্চ প্রশস্ততা ছিল প্রায় ৩০ মিলিমিটার এবং স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ৩৩ সেকেন্ড।

মারাপি আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ পোস্টের কর্মকর্তা বিলাল অ্যালেগ্রা মুনবেইটস জানান, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তৈরি হওয়া ছাইয়ের স্তম্ভ ঘন ধূসর রঙের ছিল এবং তা পূর্বদিকে ভেসে যেতে দেখা গেছে।

বর্তমানে মারাপি আগ্নেয়গিরিকে সতর্কতার দ্বিতীয় স্তর বা অ্যালার্ট লেভেল দুইতে রাখা হয়েছে। সেন্টার ফর ভলকানোলজী অ্যান্ড জিওলজিকাল হ্যাজার্ড মেটোগেশন সতর্ক করে বলেছে, আগ্নেয়গিরির ঢাল থেকে ঠান্ডা লাভার স্রোত নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে যেসব নদী আগ্নেয়গিরির চূড়া থেকে উৎপত্তি হয়েছে সেসব নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য ঝুঁকি বেশি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বৃষ্টি বা বর্ষাকালে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই আগ্নেয় ছাই পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের নাক ও মুখ ঢেকে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যাতে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা এড়ানো যায়।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৮৯১ মিটার উঁচু এই আগ্নেয়গিরিটি সুমাত্রা দ্বীপে অবস্থিত। নিরাপত্তার স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরেই আগ্নেয়গিরির গহ্বরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে বাসিন্দা ও পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। দেশটি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির প্রবল সক্রিয়তার জন্য পরিচিত প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার অঞ্চলের ওপর অবস্থিত।

AS/AHA
আরও পড়ুন