ইরানি নাগরিকদের প্রবেশে অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১০:১০ এএম

ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানি নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিজিটর ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে অস্ট্রেলিয়া।

বুধবার (২৫ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘জাতীয় স্বার্থ’ এবং ‘পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির’ কথা বিবেচনা করে আগামী ছয় মাসের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ইরানে যুদ্ধ চলায় বর্তমানে দেশটিতে থাকা ভিজিটর ভিসা ধারীরা তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিজ দেশে ফিরতে পারবেন না বা ফিরতে চাইবেন না এমন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মূলত ইরানি নাগরিকরা যাতে অস্ট্রেলিয়ায় এসে গণহারে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা না করতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় কারা স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। এটি কেবল কোনো ছুটির দিনের ভ্রমণের সুযোগ হতে পারে না। যুদ্ধের আগে অনেককে ভিসা দেওয়া হয়েছিল, যারা বর্তমান পরিস্থিতিতে আবেদন করলে হয়তো ভিসা পেতেন না।’

এই নিষেধাজ্ঞা মূলত সেইসব ইরানি নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য যারা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থান করছেন, এমনকি তাদের কাছে বৈধ টুরিস্ট বা কাজের ভিসা থাকলেও তারা প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে যারা ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন, ট্রানজিটে রয়েছেন অথবা যাদের পরিবারের সদস্য (স্বামী/স্ত্রী/সন্তান) অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক, তারা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন।

সিডনি-ভিত্তিক ‘অ্যাসাইলাম সিকার্স সেন্টার’ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে একে একটি ‘লজ্জাজনক আইন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা বলছে, যখন একটি মানবিক সংকট চলছে, তখন নিরাপদ আশ্রয়ের পথ বন্ধ করে দেওয়া অস্ট্রেলিয়ার সুরক্ষা কর্মসূচির ভিত্তিকে হুমকিতে ফেলছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে কুইন্সল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওমেন্স এশিয়ান কাপ চলাকালীন ইরান নারী ফুটবল দলের সাতজন সদস্য ও কর্মকর্তা অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। যুদ্ধের ডামাডোলে ইরানি নাগরিকদের এমন প্রবণতা বাড়তে পারে ভেবেই এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করল আলবানিজ সরকার। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৯০ হাজার ইরানি বংশোদ্ভূত নাগরিক বসবাস করছেন।

NB
আরও পড়ুন