স্পেনে দাবানল, দক্ষিণ ইউরোপে বাড়ছে ভয়াবহ সংকট 

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাবানলের তাণ্ডব। স্পেনে ভয়াবহ এক দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর এখনও প্রায় ২০ জন নিখোঁজ। একই সঙ্গে ফ্রান্স, পর্তুগালসহ কয়েকটি দেশেও আগুন, প্রাণহানি, ফসলের ক্ষতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

স্পেনের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের কাছে আলমেরিয়া অঞ্চলে বৃহস্পতিবার দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন আরও চারজন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, এখনও প্রায় ২০ জনের খোঁজ মেলেনি। চলতি বছরে ইউরোপে এটিই প্রথম দাবানল, যেখানে একসঙ্গে এত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

শুধু স্পেন নয়, চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সের পিরেনিজ এলাকায় বড় দুটি দাবানলের কারণে প্রায় ১২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পর্তুগালের মধ্যাঞ্চলেও বড় আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যার ধোঁয়া আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে। ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেম (EFFIS) জানিয়েছে, এ বছর এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ৩০ হেক্টরের বেশি আয়তনের ৩১৪টি দাবানল হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের প্রায় দ্বিগুণ। ৮ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।

গবেষকদের মতে, দক্ষিণ ইউরোপে দাবানল নতুন কিছু নয়, তবে এখন তা আগের তুলনায় আরও আগে শুরু হচ্ছে এবং আগুনের তীব্রতাও বাড়ছে। গত শীতের অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জন্মানো বিপুল পরিমাণ গাছপালা পরপর তিনটি তাপপ্রবাহে শুকিয়ে সহজেই আগুন ধরার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেক জমি অযত্নে পড়ে থাকছে, যা আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার একটি কারণ।

চরম তাপদাহের প্রভাব শুধু দাবানলেই সীমাবদ্ধ নেই। ফ্রান্সে জুনের শেষ সপ্তাহে তাপজনিত কারণে ২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে ২৪ জুন ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। একই সঙ্গে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে, যা শহরে রাতের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া নদীর পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ফ্রান্সের কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাতে হয়েছে।

এদিকে তীব্র গরমে ইউরোপজুড়ে ভুট্টা, গম ও বার্লির উৎপাদনের পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। পাশাপাশি উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। ইতালির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ইউরোপে ডেঙ্গু মহামারির ঝুঁকি ১৯৫১–১৯৬০ সময়ের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। গবেষকদের সতর্কবার্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগে শুধু উষ্ণ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকা রোগগুলো এখন ইউরোপের নাতিশীতোষ্ণ এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে।

সূত্র:সিএনএন

Attr/AHA
আরও পড়ুন