পুতিন ও ইউক্রেন যুদ্ধে জনগণের সমর্থনের মাপকাঠি রাশিয়ার নির্বাচন

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থন যাচাইয়ের মাপকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনকে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে তিন দিনের এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এটিই রাশিয়ার প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। ৪৫০ আসনের রাষ্ট্রীয় এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া দলই তাদের প্রাধান্য ধরে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন, ভোটারদের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ হবে যে লাখো মানুষ ইউক্রেনে লড়াইরত রুশ সেনাদের পাশে রয়েছে। তার ভাষায়, জনগণ অভিন্ন মূল্যবোধ, ঐতিহাসিক স্মৃতি ও দেশের প্রতি ভালোবাসায় ঐক্যবদ্ধ এবং তাদের বিভক্ত বা ভয় দেখাতে কেউ সফল হবে না।

রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি নির্বাচনী বিজ্ঞাপনেও যুদ্ধের আবহকে সামনে আনা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সময়ের রুশ সামরিক কমান্ডারদের দেখানোর পর ইউক্রেনে যুদ্ধরত সেনাদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে ধরার দৃশ্য দেখানো হয়। বিজ্ঞাপনের স্লোগানে বলা হয়, সেনাদের কণ্ঠ বিজয়ের কণ্ঠ এবং ভোট রাশিয়ার শক্তি।

তবে এই নির্বাচনে যুদ্ধবিরোধী অধিকাংশ প্রার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো উদারপন্থী ইয়াব্লোকো দলকে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যালট থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট। দলটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যদিও ইয়াব্লোকোর কিছু প্রার্থী পৃথক নির্বাচনী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্যের কারণে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা লেভ শ্লোসবার্গকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দলের উপপ্রধান ম্যাক্সিম ক্রুগলভও একই ধরনের অভিযোগে চলতি বছরের জুনে সাত বছরের কারাদণ্ড পান। রুশ কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় সেনাবাহিনীকে অসম্মান করা বা যুদ্ধ নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে দীর্ঘ মেয়াদের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে যুদ্ধ নিয়ে ক্লান্তি ও অর্থনৈতিক চাপেরও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। জ্বালানি শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে দেশের কিছু এলাকায় জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ সুদের হার, শ্রমিক সংকট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ড্রোন হামলা এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এসব পরিস্থিতির মধ্যে ভোটের মাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনোভাব ও ক্লান্তির মাত্রা বোঝার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ মনোভাবের আরেকটি দিকও সামনে এসেছে। কিছু জনমত জরিপে শান্তি আলোচনার পক্ষে সমর্থন ৬০ শতাংশের ওপরে উঠেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ক্রেমলিনও বারবার বলেছে, তারা আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে মস্কো বলেছে, যে কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের পুরো নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকতে হবে এবং তারা শুধু যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চায়।

নির্বাচনকে ঘিরে ইলেকট্রনিক ভোটিং নিয়েও কিছু ভোটার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এক ভোটার রয়টার্সকে বলেন, ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ফলাফল কারচুপি করা সহজ হতে পারে। তবে রাশিয়ার নির্বাচন কমিশন এ ধরনের অভিযোগকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

রুশ সরকার বলছে, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন শত্রুপক্ষ দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এ কারণে জাতীয় ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও দাবি করেছে ক্রেমলিন। শুক্রবার শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে রোববার পর্যন্ত। প্রাথমিক ও আংশিক ফল রোববার সন্ধ্যা থেকে প্রকাশ হতে পারে এবং সোমবারের মধ্যে প্রায় পূর্ণাঙ্গ ফল পাওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত