ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগিয়ে যেতেই দিল্লি থেকে কলকাতা-সর্বত্র এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? নির্বাচনি ফলাফলের প্রাথমিক আভাসে গেরুয়া শিবিরের পাল্লা ভারী হতেই এই জল্পনা তীব্র হয়েছে। দলের অভ্যন্তরে এবং রাজনৈতিক মহলে আপাতত বেশ কয়েকটি নাম নিয়ে জোর চর্চা চলছে।
অধিকাংশের মতে, শুভেন্দু অধিকারীই বর্তমানে এই পদের জন্য সবচেয়ে বড় দাবিদার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতা ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করে তিনি নিজের রাজনৈতিক শক্তির প্রমাণ দিয়েছিলেন। গত পাঁচ বছর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে তার লড়াকু ভূমিকা তাকে বাংলার রাজনীতিতে বিজেপির সবচেয়ে চেনা মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তবে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে শুভেন্দু অধিকারী একা নন। আরএসএস-এর ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিক শমীক ভট্টাচার্য-এর নামটিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও দলের প্রতি আনুগত্য তাকে বিশেষ সুবিধা দিতে পারে।
পাশাপাশি, বাঙালি ‘ভদ্রলোক’ ইমেজ ও বুদ্ধিজীবী মহলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে প্রাক্তন সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী নেতা স্বপন দাশগুপ্ত-কেও অনেকে সম্ভাব্য তালিকায় রাখছেন। বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি কোনো ‘চমক’ দিতে চায়, তবে তার নাম আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নাম রয়েছে দিলীপ ঘোষেরও। তারই নেতৃত্বে ২০১৬ সালে মাত্র ৩টি বিধানসভা আসন থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি বাংলায় অভাবনীয় উত্থান ঘটিয়েছিল। নিচুতলার কর্মীদের ওপর তাঁর অগাধ প্রভাব বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কার ওপর আস্থা রাখবেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে নবান্নের মসনদে যে-ই বসুন না কেন, এবারের জয় বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করলো। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
পশ্চিমবঙ্গে পদ্মফুল ফুটেছে: মোদি
পশ্চিমবঙ্গে তারকা প্রার্থীদের ভরাডুবি, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের দাপট
‘খেলা শেষ’, তৃণমূলকে বিজেপির বার্তা