ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, নিখোঁজ ২০ পর্বতারোহী

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকু প্রদেশের হালমাহেরা দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট ডুকোনো (Mount Dukono) আগ্নেয়গিরিতে শুক্রবার (৮ মে) ভোরে এক শক্তিশালী অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর অন্তত ২০ জন পর্বতারোহী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৯ জনই সিঙ্গাপুরের নাগরিক। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

উদ্ধার কর্মকর্তা ইওয়ান রামদানি জানান, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গেছে। নিখোঁজ সবাই পর্বতারোহী।

এর আগে বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় ১৭ এপ্রিল থেকে এলাকাটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছিলেন।

সরকারি ভূতত্ত্ব সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া জানান, অগ্ন্যুৎপাতের সময় আগ্নেয়গিরি থেকে ঘন ধোঁয়া আকাশে উঠে যায় এবং বড় গর্জনের শব্দ শোনা যায়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরির ছাই উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই আশপাশের আবাসিক এলাকা ও টোবেলো শহরের বাসিন্দাদের আগ্নেয় ছাই বৃষ্টির বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি জরিপ বিভাগ অনুসারে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে মাউন্ট ডুকোনো অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয় এবং এর ফলে ১০ কিলোমিটার উঁচু ছাইয়ের স্তম্ভ আকাশে উঠে যায়। ডুকোনো ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এবং এটি পর্বতারোহী ও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।

স্থানীয় পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু বলেছেন, তারা খবর পেয়েছেন, অগ্ন্যুৎপাতে দুইজন সিঙ্গাপুরীয় পর্বতারোহী মারা গেছেন।

তিনি বলেন, উদ্ধারকারীরা পর্বতারোহীদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা বাসারনাস এই ছবিগুলো প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কর্মীরা সরঞ্জামসহ একটি স্ট্রেচার বহন করে পাহাড় বেয়ে উঠছেন।

ভূতত্ত্ব সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া বলেন, আগ্নেয়গিরির ধোঁয়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ ছাড়া এতে পরিবহন ব্যবস্থাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। এ কারণে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

মাউন্ট ডুকোনো বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার চার ধাপের সতর্কতা ব্যবস্থার তৃতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তরে রয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকেই দেশটির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা পর্যটক ও পর্বতারোহীদের আগ্নেয়গিরির মালুপাং ওয়ারিরাং জ্বালামুখের চার কিলোমিটারের মধ্যে না যেতে পরামর্শ দিয়ে আসছে।

উত্তর হালমাহেরার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু জানিয়েছেন, মাউন্ট ডুকোনো থেকে পর্বতারোহীদের সরিয়ে আনতে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। তেরনাতের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার ডুকোনোতে একটি গারমিন ডিভাইস থেকে তারা একটি জরুরি এসওএস সংকেত পেয়েছে। সূত্র: বিবিসি

YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত