সাবেক কিউবান নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালের একটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগ আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসার পর আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন-হাভানা সম্পর্ক।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি একদিকে কূটনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে কিউবার অভ্যন্তরীণ সংকটকেও আরও জটিল করে তুলছে। ফলে সম্ভাব্য এই পদক্ষেপ ঘিরে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন-হাভানা সম্পর্ক।
কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন দশক আগে দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এই মামলা আনা হতে পারে। তবে এ অভিযোগ আনতে হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের একটি গ্র্যান্ড জুরির অনুমোদন পেতে হবে।
সম্ভাব্য এই অভিযোগ এমন এক সময় সামনে এলো, যখন সিআইএ পরিচালক কিউবার রাজধানী হাভানায় দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে যান।
৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো ২০২১ সালে কিউবান কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান, যার মাধ্যমে তার পরিবারের টানা অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটে। তিনি তার ভাই ফিদেল কাস্ত্রোর পদত্যাগের পর দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৫ বছর দেশ শাসন করেন।
সম্ভাব্য এই ফৌজদারি অভিযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের কিউবার ওপর চাপ প্রয়োগের নীতির সর্বশেষ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে তেল অবরোধ ও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
অভিযোগগুলো মূলত ১৯৯৬ সালে ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ নামে একটি মার্কিন মানবিক-অ্যাক্টিভিস্ট সংগঠনের দুটি বিমানের গুলি করে ভূপাতিত করার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই ঘটনায় চারজন নিহত হন, যা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের কয়েকটি সূত্র মার্কিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, আগামী বুধবারের মধ্যেই এই অভিযোগ আনা হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি বিচার বিভাগকে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিউবানদের সাহায্য দরকার, যেমনটা আপনি জানেন। তারা সত্যিই একটি পতনশীল দেশ।’
ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করেছে, যার ফলে দেশটিতে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কিউবাবাসী ভুগছে, কখনও কখনও পুরো দেশেই ব্ল্যাকআউট দেখা দিচ্ছে। হাসপাতাল, স্কুল ও সরকারি অফিসও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছে না।
এ সপ্তাহেই দ্বীপ রাষ্ট্রটির জ্বালানিমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, কিউবা কার্যত ফুয়েল অয়েল শেষ করে ফেলেছে।
১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির ওই ঘটনায় তখন কিউবার প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফিদেল কাস্ত্রো এবং রাউল কাস্ত্রো ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর মন্ত্রী।
‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ সংগঠনটি মূলত কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের রক্ষা ও অনুসন্ধান করত। তারা আগে কিউবার আকাশসীমায় প্রবেশ করে কাস্ত্রোবিরোধী লিফলেটও ফেলেছিল।
কিউবা সরকার দাবি করেছিল, তারা বহুবার যুক্তরাষ্ট্রকে এই আকাশসীমা লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করেছিল।
ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল সম্প্রতি এ ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস সম্ভাব্য এই অভিযোগকে ‘অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল’ বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে কিউবা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ কঠোর অবস্থান প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও শক্তি প্রয়োগের হুমকি সত্ত্বেও কিউবা সার্বভৌম উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ অভিযোগ সম্পর্কে নিশ্চিত করেননি। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, ‘যখন এ বিষয়ে বলার সময় আসে, আমরা অবশ্যই বলব।’
ট্রাম্প সম্প্রতি এক সমাবেশে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার কমিউনিস্ট নেতৃত্ব পরিবর্তন করতে চায়। এমনকি তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘দ্বীপটি দখল’ করতেও পারে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলার ঘোষণা ইসরায়েলের
কাতায়েব হিজবুল্লাহ কমান্ডার নিউ ইয়র্কে গ্রেপ্তার
বাহরাইনের নাম মুছে ফেলার হুমকি ইরানের