স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনে শিল্পীদের বয়কটের মুখে ‘ট্রাম্প

আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট সিরিজ এখন চরম বিতর্কের মুখে। একের পর এক সঙ্গীতশিল্পী ও ব্যান্ড দল এই আয়োজন থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন, আবার অনেকে দাবি করেছেন যে তাঁরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কখনোই সম্মতি দেননি।

শিল্পীদের এই বয়কটে মোটেও দমে যাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, বেশি টাকা নেওয়া এবং অসন্তুষ্ট থাকা তথাকথিত ‘শিল্পী’দের তাঁর প্রয়োজন নেই। তিনি কেবল সুখী, বুদ্ধিমান, সফল এবং জয়ী মানুষদের পরিবেষ্টিত হয়ে থাকতে চান। এই পরিস্থিতির মুখে চলতি মাসের শেষের দিকে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে পরিকল্পিত ১৬ দিনব্যাপী ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’ উদযাপনে ট্রাম্প নিজেকেই মূল আকর্ষণ হিসেবে উপস্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে অনুষ্ঠানটি শিল্পীদের পরিবর্তে একটি ‘বিশাল মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন র‍্যালি’তে পরিণত হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প নিজেকে বিশ্বকাপ ফুটবল, লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক এবং আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সাথে জড়িয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কংগ্রেসের অফিশিয়াল কমিশনের বাইরে ট্রাম্প-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো নিজস্ব অর্থায়নে 'ফ্রিডম ২৫০' নামে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী কমিটি গঠন করেছে। তাদের আয়োজনে রয়েছে ন্যাশনাল মলের স্টেট ফেয়ার, হোয়াইট হাউসের ভেতরে ইউএফসি ফাইট, গ্র্যান্ড প্রিক্স রেস এবং ৪ জুলাই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আতশবাজি প্রদর্শনী।

উৎসবের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসির সৌন্দর্যবর্ধনে হাত দিয়েছেন সাবেক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ট্রাম্প। লাফায়েত পার্কের ফোয়ারা মেরামত, রিফ্লেক্টিং পুলের সংস্কার, ব্রোঞ্জের ঘোড়ার মূর্তিতে ২৩.৭৫ ক্যারেট সোনার প্রলেপ এবং পোটোম্যাক নদীর ওপর ২৫০ ফুট উঁচু তোরণ নির্মাণের কাজ চলছে। ট্রাম্পের দাবি, ওয়াশিংটন ডিসিকে এখন খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। এছাড়া ট্রাম্পের ছবি সংবলিত স্মারক স্বর্ণমুদ্রা এবং বিশেষ ২৫০ ডলারের নোট তৈরির কাজও চলছে।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপগুলোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিস একে ‘স্বঘোষিত রাজার জন্য নিজেকে নিয়ে মাতামাতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই সমালোচনাকে 'দেশপ্রেমহীনতা' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উৎসবের জেরে পুরো জাতি এখন আরও বেশি বিভক্ত হয়ে পড়ছে। সূত্র: বিবিসি

SN
আরও পড়ুন