রপ্তানি বহুমুখীকরণে বাজেটে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির প্রস্তাব

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

দেশের রপ্তানি আয়ে একক কোনো খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে পণ্য বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বড় ধরনের নীতি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে কৃষি, ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধ ও ইলেকট্রনিকসসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন রপ্তানিমুখী খাতকে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

 বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশকালে অর্থমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।

বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়, তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি তথা অর্থনীতির অন্যতম মূল স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশই আসে এই পোশাক খাত থেকে। তবে রপ্তানি খাতের ওপর এই অতিরিক্ত একক নির্ভরতা কমানোর জন্য সরকার পণ্য বহুমুখীকরণে বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে। তৈরি পোশাকের বাইরে বাংলাদেশের হস্তশিল্প, গৃহসজ্জা সামগ্রী বা হোম ডেকর, পাটপণ্য, প্রাকৃতিক প্রসাধনী, খেলনা ও শিশুপণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপকভাবে পরিচিত করানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় অ-পোশাক খাতের রপ্তানি সম্প্রসারণ ও রপ্তানিমুখী খাতকে সহায়তা দিতে ইতোমধ্যে আটটি খাতকে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানির সুবিধা দেওয়া হয়েছে। খাতগুলো হলো খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্নিচার শিল্প, ইলেকট্রনিক্স শিল্প, স্টিলজাত দ্রব্য, প্লাস্টিক পণ্য এবং চামড়াজাত পণ্য শিল্প।

রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে এই সুবিধার পরিধি আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। নতুন বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী কৃষিজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইলেকট্রনিক্স, স্বর্ণ এবং ডায়মন্ডসহ সম্ভাবনাময় সব রপ্তানিমুখী খাতকে কাস্টমস বন্ডেড সুবিধা অথবা শুল্কমুক্তভাবে ব্যাংক গ্যারান্টির সুবিধার আওতায় পণ্য ও কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে।

সরকারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য উদীয়মান শিল্পখাতগুলোও বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Attr/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত