নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর ধারাবাহিক সমালোচনার জবাবে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। কংগ্রেসশাসিত এবং কংগ্রেস-সমর্থিত রাজ্যগুলোর প্রশ্নফাঁসের ঘটনা এড়িয়ে গিয়ে তিনি ‘বেছে বেছে’ রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপি সরকারের গত ১০ বছরে ১৫০টিরও বেশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেপি নাড্ডা বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ফায়দা তুলতেই এমন অভিযোগ করছেন রাহুল।
নাড্ডা বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরে সার্ভিস সিলেকশন বোর্ডের প্রশ্নফাঁস হয়েছে, যেখানে কংগ্রেস ও ন্যাশনাল কনফারেন্স সরকারে রয়েছে। একইভাবে হিমাচল প্রদেশ স্কুল পরীক্ষা বোর্ডে প্রশ্নফাঁস হয়েছে, সেখানে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায়। ঝাড়খণ্ডেও ঝাড়খণ্ড অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের হিন্দি ও বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নফাঁস হয়েছে, যেখানে কংগ্রেস ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সরকার রয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এত বেছে বেছে কথা বলছেন কেন? কংগ্রেস বা কংগ্রেস-সমর্থিত সরকারগুলোর প্রশ্নফাঁস নিয়ে তিনি কেন কিছু বলছেন না? কেন তিনি সেগুলো থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখছেন?’
নাড্ডার দাবি, রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা নয়, কিংবা শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন বা শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও নয়। তার ভাষায়, শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও দাবিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়াই কংগ্রেসের লক্ষ্য, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এ সময় প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সরকারের আগের প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘দোষারোপ আর পাল্টা দোষারোপের বাইরে এসে এ বিষয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। সংসদই এ ধরনের আলোচনার সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা এবং আমরা সেই আলোচনার জন্য প্রস্তুত। যত সময় বিরোধীরা চাইবে, তত সময় দেওয়া হবে। প্রশ্নফাঁসের কারণ কী, কারা এর সঙ্গে জড়িত, কেন্দ্রীয় সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে, ভবিষ্যতে কীভাবে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা যায়, এসব বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, কোটি কোটি শিক্ষার্থীর প্রতি যেন কোনো অবিচার না হয়, সেই লক্ষ্যেই একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ দলটির শীর্ষ নেতারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে তাদের আটক করা হয়। সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন।
রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, আন্দোলন দমনে সরকারের ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা, সংসদে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আলোচনা এবং শিক্ষা খাতে সংস্কার। সূত্র: এনডিটিভি
শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার আশ্বাস পেলে অনশন ভাঙবেন সোনম
আইসিইউতে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বৈঠক
অবশেষে খোঁজ মিললো রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কার