ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার বড় ধরনের ধাক্কা সামলেও ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা ও মার্কিন অবরোধে ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় দেশটির অন্যতম প্রধান বৈদেশিক আয়ের উৎস সংকুচিত হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বাণিজ্য, মুদ্রাবাজার, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সরবরাহে।
যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করত। কিন্তু মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। মে মাসে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রায় শূন্যে নেমে যাওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়। যদিও পরবর্তী সময়ে চীনসহ কিছু ক্রেতার কাছে বিকল্প পদ্ধতিতে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেছে তেহরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে তেল বিক্রি বন্ধ বা সীমিত হয়ে যাওয়ায় সরকারের রাজস্বের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক লেনদেন পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার ওপর চাপ
তেল আয়ের ধাক্কার পাশাপাশি ইরানের সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও সরবরাহ সংকটের কারণে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি রিয়ালের বিনিময়মূল্যও রেকর্ড নিম্নে নেমেছে।
তবে ইরানের অর্থনীতি পুরোপুরি তেলনির্ভর নয়। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি কৃষি, উৎপাদনশিল্প, পরিষেবা খাত এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী বাণিজ্য, বিকল্প আর্থিক নেটওয়ার্ক এবং তেল পরিবহনের গোপন পদ্ধতিও অর্থনীতিকে সচল রাখতে ভূমিকা রাখছে।
বিশ্ব কেন এখনো বড় তেল সংকটে পড়েনি?
ইরানের তেল সরবরাহ কমে গেলেও বৈশ্বিক বাজার এখন পর্যন্ত প্রত্যাশার তুলনায় তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চাহিদা কমে যাওয়া, উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশের মজুত থেকে তেল সরবরাহ—এই তিনটি বিষয় প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করেছে।
এ ছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পাইপলাইন ও বন্দর ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে ইরানের তেল সরবরাহের ঘাটতির পুরো প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে পড়েনি।
কিন্তু এই ‘বাফার’ও সীমাহীন নয়। দীর্ঘদিন হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তেল মজুত কমতে থাকবে এবং সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
তেহরানের সামনে কঠিন প্রশ্ন
ইরানের জন্য সমস্যাটি আরও গভীর। আন্তর্জাতিক বাজার তেলের ঘাটতি কিছুটা সামলে নিতে পারলেও তেহরান নিজের হারানো রপ্তানি আয় সহজে পূরণ করতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা দেশটির আর্থিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা আরও জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগও বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক চাপ ইরান কতদিন বহন করতে পারবে। তেহরান এখনো প্রতিরোধের অবস্থান বজায় রাখলেও দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশে চাকরি হারাবে ৬ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক
যুবদল নেতা নয়নের দুই ফোনেই এখন চার্জ থাকে?
সপ্তাহের শুরুতেই সোনার দামে বড় পতন
আজকের দিনে ঢাকায় 'ভুখা মিছিল' কেন হয়েছিলো?