ইহুদি দাতব্য সংস্থার অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের দায় স্বীকার চার তরুণের

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

লন্ডনে একটি ইহুদি দাতব্য সংস্থার চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চার তরুণ আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতে তারা মার্চে সংঘটিত ওই হামলায় সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন।

অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি গত ২৩ মার্চ উত্তর লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় একটি সিনাগগের বাইরে ঘটে। সেখানে ইহুদি দাতব্য সংস্থা হাতজোলা পরিচালিত চারটি অ্যাম্বুলেন্স পার্ক করা ছিল। আগুনে সব কটি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হয়ে যায়। এতে প্রায় ১০ লাখ পাউন্ডের ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

দোষ স্বীকার করা চারজন হলেন ২০ বছর বয়সী হামজা ইকবাল, ১৯ বছর বয়সী রেহান খান, ১৮ বছর বয়সী জুডেক্স আতশাতশি এবং ব্রিটিশ-পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ১৮ বছর বয়সী সাইফ আলী। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আদালতে জানানো হয়, অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেন। চতুর্থজন পালানোর জন্য একটি গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন।

তিন অভিযুক্ত ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে আদালতে নিজেদের বক্তব্য দেন। অপরজন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তাদের কারাগারে রাখা হয়েছে এবং আগামী বছরের বসন্তে সাজা ঘোষণা হতে পারে।

তবে আসামিদের আইনজীবীরা তাদের কোনো নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় পঞ্চম অভিযুক্ত ১৮ বছর বয়সী সুবহান আহমেদ অপরাধীকে সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বিচার আগামী জানুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন জানিয়েছিল, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, এমন শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর মার্চের প্রথম দিকের উত্তেজনাকর সময়ে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে যুক্তরাজ্যে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। হাতজোলার অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগও সেই ধারাবাহিক হামলার অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ইরান-সংশ্লিষ্ট হারাকাত আসহাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া নামের একটি গোষ্ঠী অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংসসহ একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছিল। সংগঠনটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

এএস
আরও পড়ুন