বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের ইউনিয়ন গঠন ও কর্মক্ষেত্রে অধিকার আদায়ের প্রচেষ্টায় সহায়তা দিতে নতুন দপ্তর চালু করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে তথ্য দেওয়া, বিভিন্ন খাতের কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি এবং সংগঠিত হতে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের যুক্ত করাই হবে নতুন মেয়রস অফিস অব ওয়ার্কার পাওয়ার-এর প্রধান কাজ।
শ্রম দিবস উপলক্ষে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাহী আদেশে দপ্তরটি গঠনের ঘোষণা দেন মামদানি। তার প্রশাসনের ভাষ্য, এর মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষ আরও বেশি সরকারি সহায়তা ও তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং কর্মক্ষেত্রে শোষণ ও অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আগেভাগেই পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
নতুন দপ্তরের নেতৃত্বে থাকছেন টনি পার্লস্টেইন। তিনি আগে দীর্ঘদিন নৌবন্দর শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন এবং দেশটির অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠন ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সের সংগঠক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পার্লস্টেইন বলেন, নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক ধনী নিয়োগকর্তা ও বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের শ্রমিকদের আরও ভালো মজুরি দেওয়ার সক্ষমতা আছে। নতুন দপ্তর এসব শ্রমিককে নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে এবং সংগঠিত হতে সহায়তা করবে।
তবে সরাসরি কোনো কর্মক্ষেত্রে গিয়ে শ্রমিকদের ইউনিয়ন গঠনে নেতৃত্ব দেবে না নতুন দপ্তর। নিউইয়র্কের অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারবিষয়ক উপমেয়র জুলি সু বলেন, শ্রমিক সংগঠিত করার সরাসরি কাজটি ইউনিয়ন ও শ্রমিক অধিকারকেন্দ্রিক সংগঠনগুলোরই থাকবে। নতুন দপ্তর তাদের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে না।
দপ্তরটি বিভিন্ন শিল্পখাতে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে শুনানি আয়োজন করবে। বিভিন্ন খাতের কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি, শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে তথ্য প্রচার এবং ইউনিয়ন গঠনে সহায়তাকারী সংগঠনের কাছে শ্রমিকদের পাঠানোর ব্যবস্থাও থাকবে।
এ ছাড়া নগর সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মক্ষেত্রসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গবেষণা ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ করবে দপ্তরটি।
মামদানি প্রশাসনের বেসরকারি খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ বাড়ানোর ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই নতুন উদ্যোগটিকে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগ কর্মক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সমঝোতার বিষয় সামনে এনেছে।
তবে উদ্যোগটি নিউইয়র্কের ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে মামদানির সম্পর্ক আরও চাপের মুখে ফেলতে পারে। নগরীর বড় নিয়োগকর্তারা এরই মধ্যে বেসরকারি খাত নিয়ে মামদানির বিভিন্ন অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে করপোরেট কর বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে তার মতবিরোধ রয়েছে।
নতুন দপ্তর সফল হলে নিউইয়র্কের শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সদস্যসংখ্যা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে নগর সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা বেসরকারি খাত ও মামদানি প্রশাসনের সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
শত্রুরা এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না: হায়দারি
রাশিয়ায় পর্বতারোহীদের ওপর তুষারধস, নিহত ১১
ইরান যুদ্ধ ব্যর্থ: সাবেক পেন্টাগন প্রধান