যুক্তরাজ্যের মাটিতে ইরান-সংশ্লিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর ভয়ভীতি, হুমকি বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না বলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে এ সতর্কবার্তা দেন মিলিব্যান্ড। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের ইরানে আটক থাকার বিষয়েও আলোচনা হয়।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের (FCDO) ভাষ্য অনুযায়ী, মিলিব্যান্ড আরাগচিকে বলেন, যুক্তরাজ্য ‘ভয়ভীতি, হুমকি বা ব্রিটিশ ভূখণ্ডে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ মেনে নেবে না। বিশেষ করে ইরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য হুমকি এবং ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার বিষয়টি তিনি আলোচনায় তোলেন।
বৈঠকে মিলিব্যান্ড ইরানকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করে উত্তেজনা কমানো এবং কূটনীতির পথে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল পুনঃস্থাপন এবং জলপথটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, হরমুজে চলাচল অব্যাহতভাবে ব্যাহত হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। চলমান সংঘাতের মধ্যে সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে নেমে এসেছে।
বৈঠকে ইরানে আটক ব্রিটিশ দম্পতি লিন্ডসে ও ক্রেগ ফোরম্যানের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানান মিলিব্যান্ড। ব্রিটিশ পক্ষ তাদের বিষয়ে কনস্যুলার সহায়তা ও যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্ক এমনিতেই বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য পদক্ষেপ জোরদার করেছে। ব্রিটিশ সরকার এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য ‘hostile activity’ মোকাবিলায় নতুন নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।
মিলিব্যান্ড-আরাগচি বৈঠক এমন এক সময়ে হলো, যখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমানো ও কিছু শর্ত পূরণ করলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়ে তারা প্রস্তুত।
তবে আলোচনার পাশাপাশি উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা হরমুজ খুলে দেওয়ার বিষয়ে একাধিক শর্তের কথা জানিয়েছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সামরিক উত্তেজনা—দুই দিকই পাশাপাশি এগোচ্ছে।
নিউইয়র্কে মিলিব্যান্ড ও আরাগচির বৈঠক তাই শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না; মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল এবং যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরে ইরান-সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা উদ্বেগ—সবকিছুই আলোচনায় এসেছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্তা স্পষ্ট—ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ থাকলেও যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে কোনো হুমকি বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে লন্ডন কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
বাংলাদেশকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট
কার ‘ভয়ে’ তাড়াহুড়া করে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লেন নেতানিয়াহু, যা জানা যাচ্ছে
জাতিসংঘের লিগ্যাল অফিসারের কাজ কী, বেতন কত?
যে দিন জাতিসংঘ সনদ ছিঁড়েছিলেন গাদ্দাফি!