ডালিম বা বেদানা দেখলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে টক-মিষ্টি স্বাদের রসালো দানা। পুষ্টিগুণ ও ফাইবারে ভরপুর এবং নানা উদ্ভিজ্জ যৌগের উপস্থিতির কারণে ফলটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে স্বাস্থ্যকর ফল হলেও এটি সবার জন্য এবং সব পরিস্থিতিতে একইভাবে উপযোগী নয়। কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা বা নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে ডালিম খাওয়ার আগে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
নিচে ডালিম খাওয়ার ক্ষেত্রে যাঁদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন, তাঁদের তালিকা পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো:
যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম: ডালিমের রস রক্তচাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই যাঁদের রক্তচাপ এমনিতেই কম থাকে, তাঁরা নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে ডালিমের রস খাওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। বিশেষ করে রক্তচাপ কমানোর ওষুধ যদি নিয়মিত চলতে থাকে, তবে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
যারা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ খান: ডালিম কিছু ওষুধের কার্যকারিতা বা শরীরে ওষুধের বিপাক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়। বিশেষ করে রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা ওয়ারফারিনের মতো ওষুধ গ্রহণকারীদের ডালিমের রস নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তাই নিয়মিত ওষুধ চললে নিজের মতো করে ডালিমের রসকে প্রতিদিনের অভ্যাস বানানোর আগে বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া নিরাপদ।
যাদের অস্ত্রোপচার সামনে রয়েছে: সার্জারি বা অস্ত্রোপচারের আগে যেকোনো খাবার বা সাপ্লিমেন্টের প্রভাব নিয়ে চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলা জরুরি। ডালিম রক্তচাপ বা ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। তাই অস্ত্রোপচারের আগে নিয়মিত ডালিম বা এর রস খেলে চিকিৎসককে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া ভালো। বিশেষ করে ডালিমের নির্যাস বা সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ এগুলো সাধারণ ফল খাওয়ার সমান নয়।
যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে: ডালিমে ফাইবার বা আঁশের পরিমাণ বেশি থাকায় তা অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে কারও কারও পেটে অস্বস্তি হতে পারে। এমনকি ডালিমের রসের কারণে কিছু মানুষের ডায়রিয়া বা পেটের অন্যান্য সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই আগে থেকেই হজমের সমস্যা থাকলে অল্প পরিমাণে খেয়ে শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা ভালো।
যাদের খাবারে অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে: যাদের তীব্র অ্যালার্জির ধাত রয়েছে, ডালিম খেলে তাদের শরীরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এর ফলে ত্বকে চুলকানি, লালচে দাগ, মুখ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে ফল খাওয়া বাদ দিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
কাশির সমস্যায় ভুগছেন যাঁরা: ডালিমের নিজস্ব স্বভাব ঠান্ডা হওয়ায় এটি শরীরে কফ বা শ্লেষ্মা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যাঁদের ঠান্ডা লাগা, তীব্র কাশি বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সাময়িকভাবে ডালিম বা এর রস খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।
শরীরে আগে থেকেই কোনো জটিলতা থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ সেবনের অভ্যাস থাকলে শুধুই ‘স্বাস্থ্যকর ফল’ ভেবে এটি অতিরিক্ত খাওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের শারীরিক পরিস্থিতি বুঝে পরিমাণ ঠিক করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
জরুরি সংকেত পেয়ে লন্ডনে ফিরে গেলো যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমান
হঠাৎ কার্ড-এটিএম সেবা বন্ধ করার কারণ কি