বিলুপ্তির পথে হাজং ভাষা

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৫৭ পিএম

বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে হাজং সম্প্রদায়ও একটি। তবে তাদের সংখ্যা খুবই কম। ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুর এলাকার পাহাড়ি এলাকায় তাদের বসবাস, সমভূমিতেও থাকে তারা। কিছু সংখ্যক সিলেট ও সুনামগঞ্জেও রয়েছে। এই সম্প্রদায়ের নিজস্ব বর্ণমালা নেই, তবে মৌখিক ভাষা আছে, তাও এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

হাজং সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর দেয়া তথ্যে জানা গেছে, ১৯৪৬ সালের আগে দেশে লক্ষাধিক এ জনগোষ্ঠীর বাস ছিল। তারা ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়েছে। হাতিখেদা বিদ্রোহ ও টঙ্ক প্রথার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে গিয়ে শাসকদের রোষানলের শিকার হন। পরে ভিটেমাটি ছেড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।

তথ্য মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে শতাধিক গ্রামে হাজংদের বাস। মোট জনসংখ্যা ২০ হাজারের সামান্য কিছু বেশি হবে। এর মধ্যে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ও নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রায় আট হাজারের অধিক লোকজনের বসবাস। তারা চাষাবাদের ওপর নির্ভরশীল। অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর চেয়ে হাজংরা শিক্ষা-দীক্ষা, চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে পিছিয়ে রয়েছে।

জন্মের পর হাজং সম্প্রদায়ের লোকজন নিজের ভাষায় ভাব বিনিময় করলেও সমাজে বাংলার হাত ধরেই চলতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ভাষা চর্চার সুযোগ না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান প্রজন্মও হাজং ভাষা ভুলতে বসেছে। ভাষা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দাবি প্রাথমিকে পাঠ্য বইয়ে হাজং ভাষা অন্তর্ভুক্তের।

বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশিষ হাজং জানান, পারিবারিকভাবে শিশুরা হাজং ভাষা ছাড়া আর কিছুর সঙ্গে পরিচিত হতে পারে না। তাই স্কুলের পাঠ্যবইয়ে হাজং ভাষা না থাকায় তারা তাল হারিয়ে ফেলে। এ জন্য প্রাক প্রাথমিকে বাংলা হরফে হাজং ভাষা অন্তর্ভুক্ত ও পাঠদানের দাবি করেছেন তিনি।

হাজং ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা ও বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক অন্তর হাজং বলেন, প্রতি শুক্র-শনিবার দেশের বিভিন্ন গ্রামে নিজ উদ্যোগে হাজং শিশুদের ভাষা চর্চা করাচ্ছেন। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় প্রাথমিক পর্যায়ে ১২টি ভাষা সাহিত্য চর্চা কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। সরকারি উদ্যোগে হাজং ভাষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানান।

ধোবাউড়া উপজেলার চারুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মানসী হাজং বলেন, আমি অনেক দিন ধরে শুনতেছি প্রাথমিকে হাজং ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কিন্তু হচ্ছে না। আমাদের হাজং ভাষা চর্চার অভাবে বিলুপ্তের পথে। গ্রামের শিশুরা বাড়িতে কিছুটা চর্চা করলেও যারা শহরে থাকে তারা ভাষা চর্চা করতে পারে না।

তিনি বলেন, আমার স্কুলে ২১ জন হাজং শিক্ষার্থী রয়েছে। যারা স্কুলে তাদের ভাষা শিখতে পারে না। আমাদের এই ভাষা রক্ষার জন্য সরকারি পৃষ্টপোষকতায় হাজং ভাষা চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং পাঠ্য পুস্তকে হাজং ভাষা অন্তর্ভুক্তের দাবিও জানাচ্ছি।

RA/FI
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত