প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি ব্যপারে যা জানালেন ববি হাজ্জাজ

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

দুর্নীতি রোধে প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি স্থানীয় প্রশাসনের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর বনানীতে ইউনিসেফ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে একথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি স্থানীয় প্রশাসনের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের। এভাবে দুর্নীতি বন্ধ করতে চাই। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটির কাছে শিক্ষকরা আবেদন জমা দেবেন। তারা প্রতিমাসে একবার সভা করে বদলি অনুমোদন দেবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের বদলি ঘিরে বিগত সময়ে দুর্নীতির জায়গা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর নতুন পলিসি গ্রহণ করা হয়েছে। সব জায়গা থেকে আমরা দুর্নীতি বন্ধ করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষক যেন স্কুলে যেতে না পারেন, সেটি ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন করে শিক্ষক নীতিমালা করা হবে।’

প্রাথমিকের নীতিমালার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকে আসছে কঠোর নীতিমালা। ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করা সব প্রতিষ্ঠানকে নীতিমালার আওতায় আনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারিকুলাম, শিক্ষক, অবকাঠামো ও পরিবেশ এবং ব্যবস্থাপনা—এই চারটিকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ২০২৮ সালের কারিকুলামে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি পুরোপুরিভাবে প্রাথমিকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত ছিল। সেই সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) অনলাইনে আবেদন আহ্বান করত। শিক্ষকরা প্রথমে উপজেলা থেকে উপজেলা, এরপর জেলা থেকে জেলা এবং সবশেষে বিভাগ থেকে বিভাগ পর্যায়ে আবেদনের সুযোগ পেতেন। অনলাইনে আবেদন করার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তা যাচাই করে জেলা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার হাত ঘুরে আবেদনটি অধিদপ্তরে আসত এবং অধিদপ্তর চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে বদলি কার্যকর হতো। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই দীর্ঘ ও আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবসান ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Attr/AHA
আরও পড়ুন