‘সুপার’ এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বড় বিপদের শঙ্কা

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

চলতি বছর থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত একটি শক্তিশালী বা ‘সুপার’ এল নিনো দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক আবহাওয়া, খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য ১০টি বড় ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন। এর প্রথম বড় প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ও খাদ্যের ওপর। আফ্রিকা এবং এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন বৃষ্টিনির্ভর কৃষি অঞ্চলে তীব্র খরা দেখা দিতে পারে, যার ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি ও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে গম, ধান, ভুট্টা ও সয়াবিনের মতো প্রধান ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন শুষ্ক অঞ্চলে দেখা দিতে পারে ভয়াবহ দাবানল, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করবে।

প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনায় একদিকে যেমন কিছু অঞ্চলে খরা হবে, অন্যদিকে কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা, ভূমিধস ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হবে। এই বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়বে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতেও। অতিরিক্ত গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেলে ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, তীব্র খরার কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ব্ল্যাকআউটের মতো বিপর্যয় ঘটতে পারে।

সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রেও এই এল নিনো বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। সাগরের স্বাভাবিক পুষ্টি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় মাছের তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দেবে, যার ফলে সামুদ্রিক মৎস্য উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাবে। কৃষি খামারগুলো সচল রাখতে সারের চাহিদা বাড়লেও বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে, যা পরবর্তীতে সার রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

অতিরিক্ত গরমের কারণে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে কৃষি ও নির্মাণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি চরম আকার ধারণ করবে এবং হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন তাপজনিত রোগব্যাধি বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, খাদ্য সংকট, তীব্র মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক এই চরম চাপ শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে সামাজিক অস্থিরতা, সংঘাত ও সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। এই আবহাওয়াজনিত সংকটে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সবচেয়ে বেশি মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাধারণ মানুষ।

SN
আরও পড়ুন